Breaking News
Home | সংবাদ | চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের মিছিল থেকে গোলাগুলি

চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের মিছিল থেকে গোলাগুলি

চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের এক পক্ষের বিক্ষোভ মিছিল থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বেলা একটার দিকে হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের সদ্যঘোষিত কমিটির শীর্ষ দুই পদে নিজেদের লোক না থাকায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বুধবারও বিক্ষোভ মিছিল করেন সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী বলে পরিচিত নেতা–কর্মীরা। সেই মিছিল থেকে প্রতিপক্ষের দিকে ফাঁকা গুলি ছোড়ার এই ঘটনা ঘটে।

সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে ২৫ সদস্যের চট্টগ্রাম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করে সংগঠনের নগর কমিটি। কমিটিতে নগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী বলে পরিচিত মাহমুদুল করিমকে সভাপতি এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলামের অনুসারী বলে পরিচিত সুভাষ মল্লিককে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। শীর্ষ দুই পদে নিজেদের কাউকে না রাখায় কমিটি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে মঙ্গলবার থেকে আন্দোলনে নামেন মেয়রের অনুসারীরা। প্রথম দিন তাঁরা পৌনে তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন।

মিছিলে অংশ নেওয়া কারও কারও হাতে ধারালো অস্ত্র দেখা যায়। চট্টগ্রাম, ১৯ আগস্ট। ছবি: ফোকাস বাংলা
আজ বুধবার বেলা ১১টায় দেখা যায়, কলেজের মূল ফটকে অবস্থান নেন আ জ ম নাছির উদ্দীনের পক্ষের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। প্রায় আধা ঘণ্টা অবরোধ শেষে তাঁরা কলেজের ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে কলেজের মূল গেট থেকে মিছিল শুরু করেন ৩০ থেকে ৪০ জন নেতা-কর্মী। মিছিলটি গণি বেকারি এলাকায় গেলে সেখানে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন চট্টগ্রাম নগর, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মেয়রের অনুসারী কয়েক শ নেতা-কর্মী। এ সময় মিছিলে কারও কারও হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দেখা যায়। এরপর মিছিল নিয়ে চকবাজার ঘুরে কলেজের সামনে এসে সমাবেশ করেন তাঁরা। এরপর সেখান থেকে পুনরায় গণি বেকারির দিকে মিছিল নিয়ে রওনা দেন মেয়রের অনুসারীরা।

এ সময় হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের ভেতরে দুটি পটকা ফাটান এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এরপরই তাঁদের দিকে ফাঁকা গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এদিকে গুলি ছোড়ার পরপরই আ জ ম নাছির পক্ষের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ইট ও পাথর মেরে পাশে থাকা কাজেম আলী স্কুল মার্কেটের বেশ কয়েকটি দোকানের কাচ ভাঙচুর করেন। এরপর পুলিশ লাঠিপেটা করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে পুলিশের তৎপরতা। চট্টগ্রাম, ১৯ আগস্ট। ছবি: ফোকাস বাংলা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলি ছোড়ার সময় দুই কলেজের শিক্ষার্থী ও পথচারীরা আতঙ্কিত হয়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। মহসিন কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের দুই শিক্ষার্থী প্রথম আলোকে বলেন, বেলা দেড়টা থেকে তাঁদের পরীক্ষা ছিল। কিন্তু ঝামেলার কারণে তাঁরা সময়মতো কলেজে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে পুলিশের সহযোগিতায় তাঁরা কলেজে প্রবেশ করেন।

প্রকাশ্যে গুলির ঘটনা ঘটলেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখেননি বলে জানিয়েছেন চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ। তবে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘শব্দ শুনেছি। তবে সেটি কি অস্ত্রের না পটকার, তা আমি নিশ্চিত নই।’

আ জ ম নাছির উদ্দীন পক্ষের চট্টগ্রাম কলেজ শাখার নেতা মোস্তফা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘কে বা কারা গুলি করেছে, আমরা জানি না। কারণ আমরা জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের দিয়ে গড়া কমিটি বিলুপ্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে নয়।’

About abdullah ashik

Check Also

প্রেম করে বিয়ে, অতঃপর… 

শীর্ষনিউজ, শেরপুর : শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে মোবাইল ফোনে প্রেম করে বিয়ের আট মাসের মাথায় স্বামীর নির্যাতনের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *