Breaking News
Home | টেলিগ্রাফ | বাকি শোধ করতে বলায় দোকানদারকে পেটালো ছাত্রলীগ

বাকি শোধ করতে বলায় দোকানদারকে পেটালো ছাত্রলীগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) মো. সিরাজ নামে এক দোকানদারকে পিটিয়ে আহত করেছে ছাত্রলীগের কর্মীরা। বুধবার (৭ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কলা অনুষদ ঝুপড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় সহকারী প্রক্টর নিয়াজ মোর্শেদ জানান, ‘দোকানদারকে মারধরের বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে কোনও লিখিত অভিযোগ পাইনি।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সাত মার্চের কর্মসূচি পালন করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাংশ কলা অনুষদের ঝুপড়িতে যায়। এসময় সিরাজের দোকানে বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। সিরাজ সেখানে ছাত্রলীগের এক নেতার কাছে বাকি রাখা পাওনা টাকা চাইলে দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সিরাজকে মারধর করেন। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মারধরের শিকার দোকানদার সিরাজ বলেন, ‘দোকানের বাকি টাকা চাওয়ায় ছাত্রলীগের এক নেতা ও তার অনুসারীরা আমাকে মারধর করে। এসময় আমার দোকানও ভাঙচুর করে তারা।’

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বহুমুখী দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন বলেন, ‘আমাদের এক সদস্যকে ছাত্ররা মারধর করেছে। আমরা বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান দাবি করছি। দোকানদারকে হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সকল দোকানপাট বন্ধ থাকবে।’ এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রেজাউল হক রুবেলে সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। উৎস- বাংলা ট্রিবিউন
আরও পড়ুন- বাধা পেরিয়ে এগোচ্ছে নারী
উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে বরিশাল বিএম কলেজে অনার্সে ভর্তি হন তাসনুভা। প্রথম বর্ষ পার না হতেই পরিবারের ইচ্ছায় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয় তাকে। স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ঢাকায় বসবাস করেন। সেই সুবাদে তার ঠিকানা পাল্টে যায়। তবে পড়াশোনার তীব্র ইচ্ছা তাসনুভার। নানা প্রতিবন্ধকতা পার হয়ে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেন। একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মজীবন শুরু করেন। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গেই সংসার ও কর্মস্থল সামলে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তবে প্রথম সন্তান জন্মের পরই সব পাল্টে যেতে শুরু করে। অফিস-সন্তান-পরিবার সামলাতে গিয়ে তিনি হিমশিম খান।

সন্তানের ‘ভালো’র জন্য চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দেন স্বামী। প্রথম দিকে রাজি না হলেও পরে বাধ্য হন চাকরি ছাড়তে। এখন দুই সন্তান আর সংসার সামলে দিন কাটে তাসনুভার। এভাবেই শিক্ষাজীবন শেষ করে সফলভাবে কর্মজীবন শুরু করেও নানা প্রতিবন্ধকতায় অনেক নারীকেই কর্মস্থল থেকে ছিটকে পড়তে হয়। প্রতিবন্ধকতা আসে বিভিন্ন দিক থেকে। পরিবার, সমাজ এবং কর্মক্ষেত্রে নারীকে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয় প্রতিনিয়ত। এসব প্রতিবন্ধকতা পার হয়ে অধিকাংশ নারী এগিয়ে গেলেও কেউ কেউ পথ হারিয়ে ফেলেন। কর্মস্থল থেকে ঝরে গিয়ে হয়ে পড়েন ‘সংসারবন্দি’।
বিশ্নেষকরা বলছেন, সর্বত্রই নারীকে টিকে থাকতে হচ্ছে স্বীয় যোগ্যতায়। এখানে কেউ কাউকে করুণা করে না। নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়েই নারীকে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নারীকে নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে হবে। নারীর জন্য পরিবারের সমর্থন বড় ভূমিকা রাখে। কারণ, একটা পর্যায়ে পরিবারের সমর্থন ছাড়া কর্মস্থলে টিকে থাকা নারীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। পরিসংখ্যানে নারীর অগ্রযাত্রায় অনেক তথ্য থাকলেও প্রতিনিয়তই বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে তাদেরকে। আর এই পরিস্থিতিতেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো আজ বাংলাদেশেও পালিত হবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এ উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে গৃহীত হয়েছে নানা কর্মসূচি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ (২০১৬ সালে প্রকাশিত) থেকে জানা যায়, বর্তমানে সাড়ে চার কোটি মানুষ শ্রমশক্তির বাইরে অবস্থান করছে। এর অধিকাংশই নারী। জরিপ অনুযায়ী, প্রায় তিন কোটি ৫২ লাখ নারী শ্রমশক্তির বাইরে। এর আগের জরিপ ২০১৩ সালে এ সংখ্যা ছিল তিন কোটি ৬১ লাখ।
বিবিএসের জরিপ বিশ্নেষণ করে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) বলছে, গত কয়েক বছরে বিভিন্ন খাতে নারীর কর্মসংস্থান কমেছে। যেমন- ২০১৩ সালে শিল্প খাতে নারীর কর্মসংস্থান ছিল ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ, ২০১৬ সালে তা কমে ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে। সেবা খাতে ২০১৩ সালে নারীর অংশ ছিল ২৩ শতাংশ, তিন বছর পর তা কমে ২১ শতাংশ হয়েছে। নারীর কর্মসংস্থান নিয়ে ‘শ্রমবাজার পরিস্থিতি ২০০৬ থেকে ২০১৬’ শীর্ষক এ গবেষণা ফল গত বছরের ডিসেম্বরে প্রকাশ করে বিআইডিএস।

এতে দেখা যায়, ২০১৩ সালে সার্বিকভাবে দেশের ১০০টি কর্মসংস্থানের মধ্যে ৩৩টি ছিল নারীর দখলে, ২০১৬ সালে তা কমে ২৮টিতে দাঁড়িয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার ব্যাখ্যায় বিআইডিএস বলছে, মানুষের আয় বাড়ায় অনেক নারী এখন ঘরের বাইরে কাজ করতে চান না। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর চুক্তিতে কাজ করা অনেক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতেও নারীর কাজের সুযোগ কমেছে।
Like this:Like Loading…

Related

About admin

Check Also

‘দিল্লি লুটের সময়ও এত টাকা লুট হয়নি’

দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম নিয়ে জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *