Breaking News
Home | টেলিগ্রাফ | সমাবেশস্থলের বাইরে নারী লাঞ্ছিত হলে দলের কোনো দায় নেই

সমাবেশস্থলের বাইরে নারী লাঞ্ছিত হলে দলের কোনো দায় নেই

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ৭ মার্চের সমাবেশস্থলের বাইরে নারী লাঞ্ছিত হওয়ার মতো কিছু হলে দলের কোনো দায় নেই, কিন্তু দায় সরকারের আছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে, দোষীদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
বুধবার আওয়ামী লীগ আয়োজিত ঐতিহাসিক ৭ মার্চের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর শাহবাগের আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ইভটিজিং ও নারীদের ওপর যৌন হয়রানির অভিযোগের খবর ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। বিস্তারিত আসছে… উৎস- দৈনিক যুগান্তর

রিলেটেড কলাম- অদিতিরাই এই দেশে থাকবে, নিপীড়করা থাকবে না
এই দেশে থাকবো না’ বলা মানে হলো এসব কাপুরুষের জন্য তোমার মতো লাখো-কোটি নারীকে একইরকমভাবে নির্যাতিত হওয়ার জন্য জায়গা ছেড়ে যাওয়া! তুমি হয়তো দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা বলেছো, বাংলাদেশে প্রতিদিন কোনও না কোনও নারী ধর্ষণ, নিপীড়ন, এমনকি পারিবারিক নির্যাতন সইতে না পেরে পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়, যাচ্ছে, যেতে চায়।
তোমাদের সবার জন্য আমার আহবান, এই দেশে, এই পৃথিবীতে তুমিই থাকবে, বরং নিপীড়করা থাকবে না। তাদেরকে এই দেশ, এই সমাজ, প্রয়োজনে এই পৃথিবী ছেড়ে যেতে হবে। কেবল নিজেকে জিজ্ঞাসা করবে, আমরা কেন যাবো? আমরা কি কোনও অপরাধ করেছি? এই রাস্তা কি আমাদের নয়? এই দেশ কি আমাদের নয়? এই জীবন কি আমাদের নয়? তবে কেন পরাজিতের মতো হারিয়ে যাবো?
অদিতি এবং আরও যারা একইরকমভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছো তাদের বলছি, তুমি তো একজন বিতার্কিক কিংবা শিক্ষার্থী, তুমি দেশের সবচেয়ে নামকরা কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তোমার পরিবার তোমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে, তোমার ক্লাসে রয়েছে তোমার মতোই সম্ভাবনাময় অনেক কিশোরী বা তরুণী, যাদের সঙ্গে তুমি প্রতিদিন ক্লাস করো, পথ চলো, স্বপ্নের পথে হেঁটে চলো, তোমার জীবনে কিছু বন্ধু আছে, যাদের সঙ্গে তুমি হাসো মন খুলে, কথা বল প্রাণ খুলে, তোমার একটি সুন্দর পরিবার আছে, যেখানে তুমি দিন শেষে ভালোবাসা আদায় করে নাও কিংবা সবচেয়ে আস্থার জায়গা সেখানেই তোমার। কিন্তু একবার ভেবে দেখে তো তোমার সমান বয়সী একটি মেয়ে গ্রামে কিংবা অজপাড়াগাঁয়ে কতটা নিপীড়ন আর অসহায় অবস্থায় বেড়ে উঠছে। পরিবার, সমাজ-সংস্কৃতিতে, যার হয়তো নেই তোমাদের মতো একটি ভালোবাসাময় পারিবারিক পরিসর, নেই বন্ধু-বান্ধব, নেই মন খুলে কথা বলার কেউ, নেই ফেসবুকে নিজের নিপীড়নের কথা বলার পরিসর।

ফেসবুক দূরে থাকুক, এমনকি বাবা-মায়ের কাছেও বলার সাহস নেই। সেই মেয়েটিকে/মেয়েদের তো আমাদের বাঁচাতে হবে, সেই মেয়েটিকে নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে, অদিতি ও অদিতিরা। তুমি বা তোমরা যদি এতটা এগিয়ে থাকা মানুষেরা ভেঙে পড়ো, দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা বলো, পৃথিবী ছাড়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নাও, তাহলে এই দেশের পরিবর্তন কারা আনবে,বলো তো?
মনে রাখবে, হার মানা যাবে না, তৈরি হও এসব কাপুরুষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য, নিজেকে শক্ত করো সামনের কঠিন পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য, নিজের স্বপ্নকে নিয়ে এগিয়ে যাও আরও দুরন্ত গতিতে। আরও একটা বিষয় মনে ধারণ করতে হবে, আমাদের একটি পরিবার আছে, যারা সকল কিছুর ঊর্ধ্বে কেবল আমাদের ভালোবাসে! আমাদের মা আছে যিনি তার নিজের জীবনের চেয়েও তোমায়-আমায় বেশি ভালোবাসে, একজন বাবা আছে যিনি হয়তো আমার-তোমার নিরাপত্তার কথা ভেবে শাসন করেন, কিন্তু বিশ্বাস করো, তাদের চেয়ে আপন পৃথিবীতে আর কেউ নেই তোমাদের-আমাদের! তাই এসব কাপুরুষের নিপীড়িত প্ররোচনায় নিজেকে হারিয়ে ফেলো না।
জীবন মানেই যুদ্ধক্ষেত্র, নারীর জন্য এই যুদ্ধক্ষেত্র অনেক বেশি কঠিন করে রেখেছে এই পৃথিবী। কিন্তু এই যুদ্ধক্ষেত্রে জয় লাভ করাটাই নারীজীবনের সার্থকতা!

মনে রাখতে হবে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নারীর ‘পরাজয়’ই চায়, তাই এসব করে। কিন্তু তুমি/তোমরা কেন একবিংশ শতাব্দীর মেয়ে হয়ে এসব পুরুষতান্ত্রিক রাজনীতির কাছে হেরে যাবে? তুমি বা তোমরা তো হেরে যাওয়ার জন্য জন্ম নাওনি। তবে কেন এভাবে পরিজিতদের মতো বলবে, ‘এই দেশে থাকবো না?’ এই দেশ তোমার, এই দেশ এমনি এমনি কেউ তোমাকে বা আমাকে দিয়ে যায়নি। এই দেশ পেতে আমাদের ৩০ লক্ষ মানুষ প্রাণ দিয়েছে, জীবনের বিনিময়ে বহু নারী-পুরুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছে। ‘ত্রিশ লক্ষ মানুষের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এই দেশ’ এই লাইনটি শুনতে শুনতে আমাদের এখন আর গায়ে লাগে না, কিন্তু ভেবে দেখো ত্রিশ লক্ষ মানে কতগুলো মানুষ, কতগুলো পরিবার, কতগুলো রক্ত?
এই রক্তের ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব তোমার, আমার, তোমাদের, আমাদের। অতএব, আমাদের হেরে গেলে হবে না। তাহলে হেরে যাবে দেশ। দেশকে হেরে যেতে দেওয়া যাবে না। মনে রাখবে, এই দেশে তোমরাই থাকবে, বরং এই কাপুরুষ পাষণ্ড নরপিশাচেরা থাকবে না। তাদের জন্য এই দেশ কেন, পৃথিবীর কোথাও কোনও জায়গা নেই! তারা কেবল মানুষের ঘৃণার পাত্র হতে পারে, বেঁচে থাকার কোনও অধিকার তাদের নেই!

আবার পরিবারের কথা যদি ভাবি? একজন মা কত কষ্ট করে কতটা প্রতিবন্ধকতা পাড়ি দিয়ে তোমায়-আমায় জন্ম দিয়েছেন? মেয়ে জন্ম দেওয়ার অপরাধে কত রাত কেঁদে পার করেছেন কে জানে। কতটা কষ্ট করে দিনে দিনে তিলে তিলে একটু একটু করে আজ আমাদের এতদূর এতটা পথ হাঁটিয়েছেন! মায়ের এই ঋণও তো আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। এই মাকে জিতিয়ে দেওয়ার জন্য হলেও আমাদের যুদ্ধটা করে যেতে হবে। আমরা এসব নিপীড়নে হেরে গেলে মা হেরে যাবেন, দেশ হেরে যাবে,হেরে যাবো আমরা।
Like this:Like Loading…

Related

About admin

Check Also

‘দিল্লি লুটের সময়ও এত টাকা লুট হয়নি’

দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম নিয়ে জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *