Home | তথ্য প্রযুক্তি | ইন্টারনেটের দাম বাড়ানোর ডিজিটাল বিপ্লব?

ইন্টারনেটের দাম বাড়ানোর ডিজিটাল বিপ্লব?

ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে যেখানে ইন্টারনেটের প্রসার সবচেয়ে জরুরি, সেখানে সরকার ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বাড়তি ফি আরোপ করতে যাচ্ছে। সরকার ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের (আইএসপি) লাইসেন্স ফি ১০ থেকে ২৫ গুণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, এসব প্রতিষ্ঠানের আয়ের ২ শতাংশ অর্থ এখন থেকে সরকারকে দিতে হবে! এর প্রভাবে গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম বাড়বে। নিঃসন্দেহে বলা যায়, এতে ইন্টারনেটের প্রসার ব্যাহত হবে, যেটা এ মুহূর্তে মোটেও কাম্য নয়, বিশেষ করে যখন বাংলাদেশ ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষিণ এশিয়ার পেছনের সারির দেশ। আমাদের পেছনে আছে শুধু আফগানিস্তান।

এ তো গেল ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের দাম, দেশে মোবাইল ইন্টারনেটের দামও অনেক বেশি। প্যাকেজ না নেওয়া হলে একটি মুঠোফোন অপারেটর আধা মেগাবাইট ডেটার জন্য ৭ টাকা কেটে নেয়। এখন তারা নানা প্যাকেজের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে ডেটা দিলেও মেয়াদ দিচ্ছে খুবই কম। কথা হচ্ছে, ইন্টারনেট ব্যবহারের মেয়াদ থাকবে কেন। আবার সব সব ক্ষেত্রে অব্যবহৃত প্যাকেজের ডেটা পরবর্তী প্যাকেজের সঙ্গে যুক্ত হয় না। এ রকম নানা চক্করের মধ্য দিয়ে আমাদের এই মোবাইল ডেটা ব্যবহার করতে হচ্ছে।

বর্তমানে দেশে বিভিন্ন মুঠোফোন অপারেটরের ৩০ দিন মেয়াদের এক গিগাবাইট ইন্টারনেট প্যাকেজের গড় দাম ১৮০ থেকে ২২০ টাকা। আর ৭ দিন মেয়াদের এক গিগাবাইট প্যাকেজের দাম ৮৯ থেকে ৯৪ টাকা। এই দামের সঙ্গে ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর, ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ১ শতাংশ সারচার্জ গ্রাহককে দিতে হয়। এই হিসাবে প্রতি ১০০ টাকার ইন্টারনেট সেবা কিনতে গ্রাহককে প্রায় ২২ টাকা কর দিতে হয়। কিন্তু এক মাস মেয়াদি এক গিগাবাইট ইন্টারনেটের দাম সব মিলিয়ে ১০০ টাকার বেশি হওয়া উচিত নয়। তবে আশার কথা, মুঠোফোনভিত্তিক ইন্টারনেটের দাম নির্ধারণে ‘কস্ট মডেলিং’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ জন্য জাতিসংঘের অধীন সংস্থা আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) একজন কর্মকর্তাকে পরামর্শক নিয়োগ করা হয়েছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে ইন্টারনেটের প্রসার যে জরুরি, তা নিশ্চয়ই আর বলার অপেক্ষা রাখে না। যদিও আমরা যে সবাই ইন্টারনেট/কম্পিউটার/স্মার্টফোনের সঠিক ব্যবহার করছি ত নয়; বরং বলা যায়, গান শোনা ও ভিডিও দেখার মতো কাজেই এর বেশি ব্যবহার হচ্ছে। এটারও দরকার আছে, কিন্তু এটাই সব নয়। ইন্টারনেটের গঠনমূলক ব্যবহার আমাদের শিখতে হবে। কিন্তু তার প্রথম শর্ত হচ্ছে স্বল্পমূল্যের উচ্চগতির ইন্টারনেট।

বলা হচ্ছে, সারা দুনিয়া এখন স্মার্টফোনের মধ্যে চলে আসছে। মানুষের এখন কম্পিউটার খুলে ওয়েবসাইটের ঠিকানা লেখারও সময় কমে যাচ্ছে। বিকল্প হিসেবে তারা এখন মুঠোফোনের অ্যাপে আলতো স্পর্শ করেই কাজ সারছে। এমনকি ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানও এখন অ্যাপ বানাচ্ছে। সেই অ্যাপ দিয়ে এখন ব্যাংকিংও করা যাচ্ছে। ঢাকা শহরে যেখানে দিনে ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা যানজটে নষ্ট হচ্ছে, সেখানে এসব অ্যাপভিত্তিক সেবা জরুরি। বিভিন্ন ধরনের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানও ধীরে ধীরে অ্যাপভিত্তিক হওয়ার চেষ্টা করছে। অনলাইন সংবাদপত্রও এখন অ্যাপ চালু করেছে। এসব শিল্পের বিকাশে কম দামে উচ্চগতির ইন্টারনেটের বিকল্প নেই।

অন্যদিকে আর্থিক খাতকে ডিজিটাইজ করা গেলে সরকারের পক্ষে ভ্যাট সংগ্রহ করা সহজ হবে। সেদিন আর খুব দূরে নয়, যখন আমরা মোটামুটি ক্যাশ-লেস ব্যবস্থায় চলে যেতে পারব। অর্থাৎ দৈনন্দিন নানা কাজে মানুষের আর নগদ অর্থ ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না। সে ব্যবস্থায় যাওয়ার মাধ্যম হবে ইন্টারনেট, যদিও ইউএসএসডি এ ক্ষেত্রে বড় প্ল্যাটফর্ম হবে। অনেক উন্নত দেশই এখন মোটামুটি ক্যাশ লেস।
আবার ইন্টারনেটের মডেম ও রাউটারের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্কের কারণে এসব পণ্যের দাম বেড়ে যায়। কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম আমদানির ওপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ৫৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ কর ধার্য করেছে। স্বাভাবিকভাবেই দেশে পাইরেটেড অপারেটিং সিস্টেম বেশি ব্যবহৃত হয়, যা আমাদের আইটি নিরাপত্তার জন্য হুমকি। কথা হলো, আইটি-সংশ্লিষ্ট পণ্যে এত শুল্ক আরোপ না করে দক্ষতা বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া উচিত, যাতে এসবের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে রাজস্ব আয় বাড়ানো যায়। মধ্যম আয়ের দেশ হতে গেলে এই দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই।

প্রতীক বর্ধন: সাংবাদিক।

About admin

Check Also

আসছে ব্যাটারিবিহীন স্মার্টফোন!

যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক ব্যাটারিবিহীন মোবাইল ফোন তৈরির জন্য একটি প্রোটোটাইপ উদ্ভাবন করেছেন। তারা বলছেন, যে …

Leave a Reply