Home | মতামত | পশ্চিমা দেশে হজে আকর্ষণীয় অফার দেয়, বাংলাদেশে হজে বিমানভাড়া দ্বিগুণ করা হয়

পশ্চিমা দেশে হজে আকর্ষণীয় অফার দেয়, বাংলাদেশে হজে বিমানভাড়া দ্বিগুণ করা হয়

সরকার তার টাকায় হজ করায় অথবা দশ টাকা ভর্তুকি দেয় তা হলে এ ধরনের কষ্ট মেনে নেওয়া যেত। কিন্তু লক্ষাধিক হাজী নিজের লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে হজে যাবেন, সরকার কেবল ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা বিধান করবে সেখানে এত দুর্নীতি, লোভ-লালসা, উদাসীনতা কেন তা কারও বুঝে আসার কথা নয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে যেসব দুর্নীতিবাজ হাজীদের কষ্ট দেন অথবা যেসব অদক্ষ ও দুষ্কৃতকারী এজেন্ট হাজীদের জিম্মি করে জন্মেরমতো টাকা কামাই করেন, বাংলাদেশের এই হাতেগোনা মানুষগুলোর কারণে বিদেশে আমাদের বদনাম। প্রবাসীদের বিদেশ যাওয়ার পথ বন্ধ হয়। হজের ক্ষেত্রে প্রতিবছর নতুন নতুন বিধি-নিষেধ, আইন ও যন্ত্রণা। যতই আইন করা হোক, সব ভেঙে অন্যায় দুর্নীতি ও চুরির পথ বের করা একশ্রেণির হজ এজেন্সি ও কর্মকর্তার কাজ।

শনিবার রাতে সময় টিভির সম্পাদকীয় অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন বাংলাদেশ হজযাত্রী কল্যাণ পরিষদ সভাপতি অ্যাডভোকেট ড. আব্দুল্লাহ আল নাসের। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মুখপাত্র শাকিল মেরাজ।

ড. আব্দুল্লাহ আল নাসের আরো বলেন, পশ্চিমা দেশে হজ উপলক্ষে অনেক বিমান কোম্পানি আকর্ষণীয় অফার দেয়। আর শতকরা ৯৩ ভাগ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশে হজের সময় বিমানভাড়া দ্বিগুণ করা হয়। যুক্তি দেখানো হয়, ফ্লাইটগুলি তো একমুখী। যায় ভরে ফিরে আসে খালি হয়ে। এ যুক্তি অর্থহীন; কারণ সারা বছরের আয়-ব্যয় নিয়ে কোম্পানির লাভ-লোকসান হিসাব করা হয়। সারা বছর লাগামহীন দুর্নীতি ও পুকুর চুরির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় বিমান কোম্পানি যখন মরে যায় যায় তখন লক্ষাধিক হাজীর কাছ থেকে গলায় পাড়া দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে মনে হয় তারা সব লোকসান তুলে নেবে। সারা বছরের দুর্নীতির সকল ক্ষতি পুষিয়ে নেবে। মন্ত্রণালয়ে অগ্রিম টাকা জমা নিয়ে দুর্নীতি, সময়মতো টাকা ছাড় করা নিয়ে দুর্নীতি। (চলতি বছর টাকা ছাড়ে দেরি হওয়ায়, কিছু হাজীর দুই হাজার রিয়াল বাড়তি জমা করার কথা তাদের না জানানোয় এবং ভিসা ও টিকিট সমন্বয় না করায় প্রায় সত্তর হাজার হজযাত্রীর হজে যাওয়া প্রবল অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে, যা একটি অসভ্য ও মোটা চামড়ার সমাজের জন্য কোনো সংবাদ নাও হতে পারে। কিন্তু এসব একটি সরকার ও সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্টদের জন্য নিঃসন্দেহে চরম গাফলতি ও পাপের কাজ। যার শাস্তি সংশ্লিষ্টদের আজ হোক কাল হোক ভোগ করতেই হবে।) এবারকার হজে মন্ত্রণালয়ের গাফিলতির যে নজির স্থাপিত হয়েছে তা ক্ষমার অযোগ্য।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে যে বিপুলসংখ্যক হাজী ধর্মীয় আবেগ ও উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে হজ করে থাকেন এবং প্রতিবছরই তাদের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে থাকে, সেটিকে সৎ ও পুণ্যময় দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করা সময়ের দাবি। হজ, ওমরা ও ধর্মীয় তীর্থভ্রমণকে নিছক লাভজনক ব্যবসা তথা পয়সা কামানোর মহা সুযোগ মনে করে কাজ করা একটি অমানবিক ও অন্যায় আচরণ। বাংলাদেশে হজযাত্রীদের সাংবার্ষিক ভোগান্তি ও সীমাহীন কষ্ট-দুর্দশা দেখে যে কেউ বুঝতে পারবে যে আমাদের দেশের কিছু লোক এখনো কতটুকু অসভ্য, জালিম ও অমানুষ রয়ে গেছে। ভালো লোক অবশ্যই আছেন। এ দেশে দুর্নীতিবাজ ও লোভী লোকজন অপকর্ম করেন, দায় নিতে হয় গোটা দেশবাসীর। দুর্নীতি করেন সমাজের প্রথম সারির লোকেরা, বদনাম হয় বাংলাদেশের। প্রতিবছরই মিডিয়ায় দেখা যায় অনেক হজযাত্রী যেতে পারছেন না। অনেকে বার বার ফ্লাইট না হওয়ার

About sarah

Check Also

এবারের আগস্ট ষড়যন্ত্রও সফল হবে না

গোটা আগস্ট মাসই বাংলাদেশ ও বাঙালির জন্য জাতীয় শোকের মাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির …

Leave a Reply