Breaking News
Home | জাতীয় | টাঙ্গাইলের ১২ উপজেলার ১০টিতে নারী ইউএনও

টাঙ্গাইলের ১২ উপজেলার ১০টিতে নারী ইউএনও

টাঙ্গাইলের নেতৃত্বে এখন নারীরা। জেলার মোট উপজেলা ১২টি। এর মধ্যে ১০টিতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়িত্ব পালন করছেন নারীরা। এছাড়া ৭টি উপজেলা সহকারি কমিশনারও (ভূমি) নারী। মোট ২৫ জন নারী এই জেলার বিভিন্ন পদে রয়েছেন। তারা দক্ষতার সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের দৈনন্দিন কাজ সামলাচ্ছেন। তাদের কর্মদক্ষতায় পাল্টে যাচ্ছে টাঙ্গাইলের সার্বিক চিত্র।

এক সময়ের অবহেলিত নারীরা এখন আর পিছিয়ে নেই। ঘরে বাইরে সবখানেই তারা এখন দক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছেন। টাঙ্গাইলের শীর্ষ পদগুলো এখন নারীদের দখলে। এছাড়াও প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিভাগেও নেতৃত্ব দিচ্ছেন আরো ১৫ নারী। তাদের নিষ্ঠা ও সফলতা প্রশংসিত হচ্ছে সর্ব মহলে।

জেলার নারী ইউএনওরা হলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় জিনাত জাহান, নাগরপুরের আসমা শাহীন, কালিহাতীর শাহীনা আক্তার, মির্জাপুরের ইসরাত সাদমীন, সখীপুরের মৌসুমী সরকার রাখী ও গোপালপুরের দিলরুবা শারমিন, বাসাইলের শামছুন নাহার স্বপ্না, ধনবাড়ীর আরিফা সিদ্দিকা, দেলদুয়ারের সাবিনা ইয়াসমিন ও ঘাটাইল উপজেলার দিলরুবা আহম্মেদ।

উপজেলার সকল বিভাগের কাজকর্মের সমন্বয়, তদারকি এবং জেলার সঙ্গে সমন্বয় করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছেন এই নারী কর্মকর্তারা। নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণসহ সরকারের গৃহিত পদক্ষেপ সফলতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করে আসছেন তারা। জেলার ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন, সরকারের স্থায়ী আশ্রয়ণ, আদর্শ গ্রাম, আবাসন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন এবং অসহায় মানুষদের বিভিন্ন আশ্রয়ণে সংস্থান করে যাচ্ছেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ছাড়াও রাজস্ব, ফৌজদারি ও উন্নয়ন প্রশাসনেরও দায়িত্ব পালন করছেন তারা। যৌতুক, বাল্যবিয়ে বন্ধ, মাদক ও জঙ্গীমুক্ত উপজেলা গড়তে তাদের ভূমিকা সর্বস্তরের প্রশংসিত হচ্ছেন।

টাঙ্গাইল সদরের ইউএনও জিনাত জাহান বলেন, ‘টাঙ্গাইল সদরের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নানা কাজ করেছি। মাঠপর্যায়ে সমস্যা হলেও সেগুলোকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করি। এতে সফলতা আসে। আর সফলভাবে এগিয়ে যাওয়াই আমাদের কাজ।

কাজ করতে গিয়ে কোনও সমস্যায় পড়তে হয় কিনা জানতে চাইলে বাসাইল উপজেলার ইউএনও শামছুন নাহার স্বপ্না বলেন, কাজকর্মে নারী হিসেবে কোনও বৈষম্য বা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হইনি। বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের সহযোগিতাই বেশি পেয়ে থাকি।

আলাপকালে যমুনা নিউজকে মির্জাপুর উপজেলা ইউএনও ইসরাত সাদমীন এসব কথা বলেন, আমি উপজেলার উন্নয়নের সকল কর্মকাণ্ডে সবার পাশে আছি, আর সবাই আছে আমার পাশে। বিশেষ করে আমি বাল্য বিবাহ বন্ধ করাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। মাঠে কাজ করে এই বাল্যবিবাহ বন্ধের সুফলও পেয়েছি। অনেকটায় কমে গেছে এখন আর বাল্যবিবাহ আমার উপজেলায় নাই বললেই চলে।

এদিকে টাঙ্গাইল জেলার উপজেলাগুলোতে উপজেলা সহকারি কমিশনারের (ভূমি) দায়িত্ব পালন করছেন ৭ জন নারী। এর মধ্যে কালিহাতীতে নাফিসা আক্তার, বাসাইলে আশরাফুন নাহার, সখীপুরে আয়েশা জান্নাত তাহেরা, দেলদুয়ারে আখতারুন্নেসা, নাগরপুরে সাবরিন চৌধুরী, মধুপুরে সিফাত-ই-জাহান, ঘাটাইলে আম্বিয়া সুলতানা দায়িত্ব পালন করছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন ২ জন নারী। এর মধ্যে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শেফালী খাতুন, ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহানাজ সুলতানা।

এছাড়াও শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন ৬ জন নারী। এর মধ্যে টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা খানম, কালিহাতী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকেয়া আক্তার, বাসাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকলিমা চৌধুরী, ভূয়াপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ পারভীন, ঘাটাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেলিনা আখতার, ধনবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পারভীন আক্তার।

About admin

Check Also

শেখ হাসিনা যখন ‘দাদি-নানি’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনো কখনো শুধুই শিশু-কিশোরদের প্রিয় ‘দাদি-নানি’ হয়ে উঠেন। শত ব্যস্ততার মধ্যেও …