Breaking News
Home | জাতীয় | স্বাধীনতার পর চারলক্ষ নারীর গর্ভপাত ঘটানো হয় : রানা দাশগুপ্ত

স্বাধীনতার পর চারলক্ষ নারীর গর্ভপাত ঘটানো হয় : রানা দাশগুপ্ত

মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, ‘অনেকেই বলেন স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের আড়াই লক্ষ মা-বোন ইজ্জত দিয়েছেন, কিন্তু গত দশ বছর মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্তে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি স্বাধীনতার পর চারলক্ষ নারীর গর্ভপাত ঘটানো হয়েছিল।’
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ‘ফাইট ফর উইমেন রাইটস, চট্টগ্রাম’ আয়োজিত নারী দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ তথ্য জানান। রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য পুরুষদের যেমন বীর প্রতীক, বীর বিক্রম উপাধি দেওয়া হয়েছিল, তেমনি নারীদের বীর প্রতীক, বীর বিক্রম উপাধি দেওয়া হয়েছিল। তারা শুধু ইজ্জত দেননি। মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেছেন, রক্ত দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘কোন স্বপ্ন নিয়ে নারীরা এ যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন? বিষয়টি শুধু নারী-পুরুষের নয়, বিষয়টি সমাজের, বিষয়টি রাষ্ট্রের। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই ছিল সমাজের অবরুদ্ধতার বিরুদ্ধে। কিন্তু তখন রাজনীতি সঠিক ধারায় ছিল, কিন্তু আজকের বাংলাদেশে সমাজ-রাষ্ট্র-রাজনীতি কোনোটাই সঠিক পথে নেই।’
ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর বলেন, ‘পৃথিবীর শুরু থেকে সমাজ ছিল মাতৃতান্ত্রিক। এখনও পার্বত্য জেলায় আদিবাসীদের মাঝে এ রীতি দেখা যায়। ওদের সমাজ মাতৃতান্ত্রিক। মা পরিবারের সকল সিদ্ধান্ত নিতেন। যখন থেকে শক্তির বিষয়টা সামনে চলে আসলো। পুরুষরা সেনাবাহিনী গঠন করলো, তখন থেকে তারা নেতৃত্বে এলো। এরপর থেকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নানাভাবে নানা আবরণে এমনসব রীতিনীতি তৈরি করলো যা, নারীকে ঘরে ঠুকিয়ে দিল। পুরুষরাই এ বৈষম্য সৃষ্টি করলো।’
ফাইট ফর উইমেন রাইটস চট্টগ্রাম-এর সভানেত্রী ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর রেহনা বেগম রানুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মাঝে বাংলাদেশ মহিলা সমিতি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক রাজিয়া বেগম, নারী উদ্যোক্তা ও যুব মহিলা লীগ নেত্রী মুশতারী মোরশেদ স্মৃতি, নারী উদ্যোক্তা ফাতেমা বেগম মুক্তা, নারী কর্মী শিখা বড়ূয়া, পারভিন আকতার, জান্নাতুল হিমু, রেখা মজুমদার, হাসনা চৌধুরী মুন্নী, নাহিদা সুলতানা নিতু, কোহিনুর আকতার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরএস/এমএস

About admin

Check Also

শেখ হাসিনা যখন ‘দাদি-নানি’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনো কখনো শুধুই শিশু-কিশোরদের প্রিয় ‘দাদি-নানি’ হয়ে উঠেন। শত ব্যস্ততার মধ্যেও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *