Home | চাকরি | টাকা দিয়েও চাকরি না হওয়া সেই যুবকের চাকরি হলো

টাকা দিয়েও চাকরি না হওয়া সেই যুবকের চাকরি হলো

অবশেষে চাকরি পেলেন রাজশাহীর মোহনপুরের আতাউর রহমান (২৫)। রোববার তাকে দফতরি কাম প্রহরী পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে এ নিয়ে গঠিত বোর্ড।
রোববারই উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোখলেসুর রহমান সুপারিশের ওই কপি পাঠিয়েছেন ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন শিক্ষা কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সোমবার বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান নিয়োগপত্র ইস্যু করবে। চাইলে তিনি ওই দিনই কাজে যোগদান করতে পারবেন।

ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আতাউর রহমানকে দফতরি কাম প্রহরী পদে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জাহানাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন ও শ্রমিক লীগের সভাপতি হাসেম আলী।

ছেলে আতাউর রহমানের চাকরির আশায় সত্তরোর্ধ ওসমান আলী জমি বিক্রি করেই ১৫ লাখ টাকা তুলে দেন জাহানাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন ও শ্রমিকলীগের নেতা হাসেম আলীর হাতে।

গত ২৪ এপ্রিল নিয়োগ বোর্ড শেষে এলাকায় প্রচার হয় আতাউরের চাকরি হয়নি। এ খবরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন দারিদ্র এ কৃষক। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে এনিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে শুরু হয় তোলপাড়।

ওই সময় চাকরি প্রত্যাশী আতাউরের ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন জানান, ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার বড় ভাই আতাউর রহমানকে দফতরি কাম প্রহরী পদে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জাহানাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন ও শ্রমিক লীগের সভাপতি হাসেম আলী। কিন্তু চাকরির জন্য তাদের কাছে নগদ টাকা ছিল না। পরে পানের বরজ ও ফসলি জমি বিক্রি করে তাদের দু’জনকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা দেয়া হয়। নিয়োগ বোর্ড শেষে আতাউরের চাকরি হয়নি বলে খবর ছড়িয়ে পড়লে তার বৃদ্ধ বাবা জ্ঞান হারান।

ওই সময় আতাউরের কাছে টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করেন জাহানাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন এবং শ্রমিক লীগ নেতা হাসেম আলী। পরে বিষয়টি ঠিক করে দেয়ারও আশ্বাস দিয়েছিলেন তারা।

দফতরি কাম প্রহরী নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলমগীর কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আতাউরের কাছ থেকে নিয়োগের নামে টাকা নেয়ার বিষয়টি তাদের জানা নেই। রোববার নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে উপজেলারে ২২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পেতে ১৫০ জন প্রার্থী আবেদন করেন। এর মধ্যে বৈধ আবেদনপত্র ছিলো ১১৫টি। নিয়োগ বোর্ডে এদের সবাইকে হাজির করা হয়। রোববার বিদ্যালয়গুলোতে নির্বাচিতদের নিয়োগের সুপারিশ করে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

About admin

Check Also

ছাত্রজীবনে টিউশনির বিকল্প কী?

ছাত্রজীবনে নিজ স্বপ্নের চারাগাছে যত্নের সময়টুকু নামমাত্র মূল্যের বিনিময়ে অন্যের স্বপ্নবীজ বোনার নামই টিউশনি। এই …

Leave a Reply