Home | চাকরি | ঝরেপড়া বাড়ছে এসআই পদে

ঝরেপড়া বাড়ছে এসআই পদে

পুলিশের সার্জেন্টদের চাকরিরে ড্রপ আউটের পরিমাণ বাড়ছে। এর ফলে প্রতিবছরই অপূর্ণই থেকে যাচ্ছে নিয়োগ কোটা। গত কয়েক বছর ধরে এমনটাই হয়ে আসছে। পুলিশ সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।মঙ্গলবা দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়- মাঠপর্যায়ে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কর্তব্য পালন করতে হয় পুলিশ সার্জেন্টদের। এতসব কষ্ট মেনে নিয়েও চাকরি হাতছাড়া করতে নারাজ দ্বিতীয় শ্রেণির এই কর্মকর্তারা। কিন্তু উল্টো চিত্র পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পদের ক্ষেত্রে। ‘সোনার হরিণ’ চাকরির পেছনে ছোটাছুটি করে শেষ পর্যন্ত যোগদান থেকে বিরত থাকছেন (ড্রপআউট) উত্তীর্ণ অনেকেই।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, দেশে মেধাবীদের সংখ্যা বাড়ছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু বিসিএস ক্যাডার পদের আশায় না থেকে পুলিশের দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা এসআই পদেও আবেদন করছেন। চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে নিয়োগ বা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া এসব মেধাবী তরুণ-তরুণী এ সময়কালে বিসিএসসহ অন্যান্য সরকারি ব্যাংক; রাজস্ব বিভাগসহ নানা পদে চাকরি পেলে শেষ পর্যন্ত আর এসআই পদে যোগ দিচ্ছেন না। এতে পূরণ হচ্ছে না এসআই নিয়োগের টার্গেট সংখ্যা।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, ২০১২ সালের এসআই নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষা শেষে ১ হাজার ৬২১ জনকে প্রশিক্ষণে পাঠানোর সুপারিশ করে পুলিশের নির্বাচনী বোর্ড। কিন্তু এর মধ্যে ১৯২ জনই প্রশিক্ষণে অংশ নেননি। আবার প্রশিক্ষণ শেষে চাকরিতে যোগ দেননি আরও ৭৬ জন। একইভাবে ২০১৩ সালে ১৫২০ জন প্রশিক্ষণের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও তাতে অংশগ্রহণ করেন ১৩৩০ জন। প্রশিক্ষণ শেষে চাকরিতে যোগ দেন ১৩২১ জন।

২০১৪ সালে ১৫১৭ জনকে প্রশিক্ষণের সুপারিশ করা হলেও তাতে অংশে নেন ১৪৩৫ জন। ওই ব্যাচ থেকে বর্তমানে ১৩৩৫ জন প্রশিক্ষণরত রয়েছেন। আর প্রশিক্ষণ শেষ হলে কতজন চাকরিতে যোগ দেবেন তা নিয়ে এখনই এক ধরনের শঙ্কা রয়েছে।

তবে ব্যতিক্রম চিত্র পুলিশ সার্জেন্ট নিয়োগে। ২০১৪ সালে সার্জেন্ট নিয়োগ পরীক্ষা শেষে ৬৫০ জনকে প্রশিক্ষণে প্রেরণের জন্য সুপারিশ করে নির্বাচনী বোর্ড। প্রশিক্ষণে অংশ নেয় ৬২৯ জন। আর প্রশিক্ষণ শেষে চাকরিতে সবাই যোগ দেন। এর আগে ২০১০ সালে ৩২৭ জনকে প্রশিক্ষণে পাঠানোর জন্য সুপারিশ করা হলে তার মধ্যে অংশে নেন ২৯৫ জন। প্রশিক্ষণ শেষে সবাই চাকরিতে যোগদান করেন। ২০০৯ সালে ১৭৫ জনকে প্রশিক্ষণে প্রেরণের জন্য সুপারিশ করা হয়। প্রশিক্ষণে অংশে নেন ১৩২ জন। এর মধ্যে মাত্র একজন চাকরিতে যোগ দেননি।

অন্যদিকে ২০১৫-১৬ সালে এসআই নিয়োগ পরীক্ষায় ৩৮ হাজার ৫০০ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। আর সার্জেন্ট পদে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন ৪ হাজার ৯০০ জন। এসআই পদে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল ও মৌখিক হতে সময় লাগবে আরও দুই থেকে তিন মাস। সার্জেন্ট পদেও আরও প্রায় দুই মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষাতেও ড্রপআউটের (ঝরেপড়া) সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ২০১৬ সালে দ্বিতীয় ধাপে চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া ১০ হাজার পুলিশ কনস্টেবলের মধ্যে প্রশিক্ষণে যোগ দেন ৮৯৪২ জন। একই বছর প্রথম ধাপে ১০ হাজারের মধ্যে ৯০৩৬ জন যোগ দেন। ২০১৫ সালে ১০ হাজার কনস্টেবলের মধ্যে ৯৩৭৩ জন যোগ দেন। ২০১৪ সালে যোগদানের সংখ্যা ছিল ৬ হাজারের মধ্যে ৫৬৪৩ জন।

পুলিশ সদর দপ্তরের অ্যাডিশনাল এসপি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আল-মামুন বলেন, এসআই পদে ২২৫ মার্ক এবং সার্জেন্ট পদে ২৫০ মার্কের লিখিত পরীক্ষা হয়ে থাকে। এতে পাস মার্ক ৪৫ শতাংশ হলে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা যায়। আর লিখিত পরীক্ষার প্রতিটি খাতা অন্তত ১০ জন পরীক্ষক দেখেন। খাতায় গোপন কোড থাকায় নিয়োগ প্রত্যাশী ও পরীক্ষক উভয়ের পরিচয় গোপন থাকে। এতে করে মেধাবীরাই এই দুটি পদে চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়ে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। এরপর তাদের যোগদান।

তিনি বলেন, দিন-দিন এ পদের জন্য মেধাবীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন তুমুল প্রতিযোগিতা হচ্ছে; পুলিশও যোগ্য লোক পাচ্ছে। কিন্তু এসব মেধাবী মুখ বিসিএস বা অন্য কোথাও চাকরি পেয়ে চলে যাওয়ায় প্রতিবারই কিছু ড্রপআউটের ঘটনা ঘটছে।

পুলিশের তথ্যমতে, সারা দেশে এ মুহূর্তে নিরস্ত্র এসআই সদস্য মঞ্জুরি রয়েছেন ২০ হাজার ২১৮ জন। সশস্ত্র এসআই মঞ্জুরি রয়েছেন ২ হাজার ৭৩০ জন। অন্যদিকে মঞ্জুরিকৃত সার্জেন্ট ২ হাজর ১১৪ জন। তবে বর্তমানে কতজন রয়েছেন, সে সংখ্যা গোপন থাকলেও মঞ্জুরিকৃত কোটা অপূর্ণ রয়েছে বলে জানা গেছে।

About admin

Check Also

ছাত্রজীবনে টিউশনির বিকল্প কী?

ছাত্রজীবনে নিজ স্বপ্নের চারাগাছে যত্নের সময়টুকু নামমাত্র মূল্যের বিনিময়ে অন্যের স্বপ্নবীজ বোনার নামই টিউশনি। এই …