Home | ইসলাম | আত্মহত্যা-অপঘাতে মরলে জ্বীন কেন মৃত ব্যক্তির রুপ নেয়?

আত্মহত্যা-অপঘাতে মরলে জ্বীন কেন মৃত ব্যক্তির রুপ নেয়?

আত্মা দেখার কাহিনীতো প্রায় শোনা যায়। আসলেই কি মৃত মানুষের আত্মাকে দেখি আমরা, নাকি অন্য কিছু? এর উত্তর পেতে হলে আগে জানতে হবে মানুষ মারা যাবার পর আসলে কি হয়? মানুষ যখন মারা যায়, তখন তার শরীর থেকে রুহ বা আত্মাকে আল্লাহর নির্দেশে আজরাইল বা মৃত্যুর ফেরেশতা বের করে নিয়ে যান। এরপর ঈমানদারদের রুহুকে ‘ইলিয়্যিন’ আর পাপীদের রুহকে ‘সিজ্জিন’ নামক স্থানে নিয়ে গিয়ে আমলনামা সংরক্ষণ করা হয়। এরপর রুহকে কবরে ফিরিয়ে দেয়া হয় সওয়াল-জবাবের জন্য। মৃত্যুর পর এভাবেই দুনিয়ার জীবন শেষ হয়ে আখিরাতের জীবন শুরু হয়।

মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামত ও হাশর দিবসের মধ্যবর্তী সময়টিকে বলা হয় ‘বারযাখ’। মৃত্যুর পর আত্মার অবস্থান বারযাখেই হয়। এখান থেকে আর ফিরে আসার সুযোগ নেই। তাই কোন ব্যক্তি মারা গেলে দুনিয়ার সাথে তার সব সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়, তার আত্মা আর পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারেনা। আত্মা যদি আর পৃথিবীতে ফিরে আসতে না’ই পারে, তাহলে অনেকে যে মৃত মানুষকে দেখেন বলে দাবি করেন, তারা আসলে কাকে দেখেন? হ্যাঁ, সত্যি সত্যিই মৃত্যুর পরেও অনেকেই তাকে দেখেন। তবে তারা সেই মানুষটিকে দেখেন না, দেখেন তার রুপকে। আর সেই রুপ নেয় জ্বিন।

প্রশ্ন আসতে পারে, জ্বীন কেনইবা মৃত ব্যক্তির রুপ নেবে?

প্রত্যেক মানুষের সাথে দিনে ২ জন আর রাতে ২ জন ফেরেশতা থাকেন, আর থাকে ‘ক্কারিন’ নামক এক শয়তান জ্বিন। প্রসংগত বলা যায়, ইবলিস জ্বিনদেরই একজন, কিন্তু প্রত্যেক জ্বিনই খারাপ নয়।

ক্কারিন জ্বিনের কাজই হল মানুষের সাথে থেকে তাকে কুমন্ত্রণা দেয়া। সব মানুষের সাথেই ক্কারিন জ্বিন থাকে, এমনকি আমাদের নবী (সা:) এর সাথেও ছিল। তবে আল্লাহপাকের বিশেষ রহমতে রাসূল (সা:) এর ক্কারিন জ্বিন ছিল ভাল। একজন মানুষের সাথে সবসময় থাকার কারনে এই ক্কারিন জ্বিন মানুষের সকল কাজ, আর তার নাড়ি-নক্ষত্র সম্পর্কে অবগত থাকে। যেমন কোন গণক বা ফকিরের কাছে গেলেন, আর সে আপনাকে দেখে বলল: ‘তুই তো গত সপ্তাহে এই এই কাজ করেছিস’। আপনি শুনে হয়তো অবাক হয়ে ভাববেন ‘সে তো সত্যি কথাই বলেছে!’ কিন্তু আসলে কোন ফকির বা গনকের এসব জানার ক্ষমতা নেই, তারা সেই মানুষটির ক্কারিন জ্বিনের সাথে যোগাযোগ করে এর মাধ্যমে জেনে বলে দেয়।

তবে গায়েবী বা অদৃশ্য খবরগুলো জানার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া মানুষ বা জ্বিন কারো নেই। যেমন সুলাইমান (আ:) এর ইন্তেকালের অনেক দিন পরেও জ্বিনরা বুঝতে পারেনি যে তিনি আর নেই, যতক্ষণ না উইপোকা তাঁর হাতের লাঠি খেয়ে ফেলার কারনে তিনি পড়ে গিয়েছিলেন।
যারা শয়তানের পূজারী হয় তাদের বিভিন্ন কাজে শয়তান সাহায্য করে, যাতে এগুলোকে ক্কারামতি বা অলৌকিক ঘটনা মনে করে মানুষ তার ভক্ত হয়ে যায় আর শয়তানের অনুসারীতে পরিনত হয়। জ্বিনদের অনেক বৈশিষ্ট্যের একটি বৈশিষ্ট্য হল তারা মানুষসহ (শুধুমাত্র রাসূল (সা:) এর রুপ ছাড়া) যেকোন প্রানীর রুপ ধারন করতে পারে। তাছাড়া অদৃশ্য থেকেও জ্বিনরা বিভিন্ন কথা বলতে বা শব্দ করতে পারে।

কেউ যখন মারা যায় বা আত্মহত্যা করে, তখন তার ক্কারিন জ্বিন সংগীহারা হয়ে যায়। তখন সে মাঝেমাঝে মৃত ব্যক্তির রুপ নিয়ে চলাফেরা করে, এমনকি মৃত ব্যক্তির রুপ নিয়ে জীবিতদের সামনে আসে। সে এমনসব কথা বলে বা তথ্য দেয় মনে হবে যেন মৃত ব্যক্তিই এসেছে। শুধু ক্কারিন জ্বিনই নয়, মৃত ব্যক্তির রুপ নিয়ে অন্য কোন জ্বিন বা শয়তানও আসতে পারে। মোটকথা, তাদের সবারই উদ্দেশ্য হল মানুষকে কষ্ট দেয়া, ভয় দেখানো, বিভ্রান্ত করা বা ঈমানকে ভূলপথে নিয়ে যাওয়া।

কুরআন-হাদীস অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির আত্মা পৃথিবীতে ফিরে আসেনা এটা বিশ্বাস করাই হল ঈমান, কিন্তু জ্বিন বা শয়তান মানুষের মনে আত্মা ফিরে আসার ভূল ধারণা ঢুকিয়ে দেয়। তবে বাস্তবে মানুষ জ্বিনকে খুব কমই দেখে, বেশিরভাগ সময় মানুষ ভূল দেখে বা কল্পনায় মৃত মানুষকে দেখে যাকে হ্যালুসিনেশন বলে। মনে রাখতে হবে, শয়তান বা জ্বিন দূর্বলচিত্ত মানুষদেরকেই ভয় দেখায় বা তাদের উপর প্রভাব বিস্তার করে বেশি।

এজন্য একমাত্র আল্লাহর উপরই দৃঢ় বিশ্বাস রেখে তাঁরই সাহায্য চাওয়া জরুরী। আর সকাল-সন্ধ্যায় সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস ৩ বার করে পড়ার জন্য বলা হয়েছে।

About admin

Check Also

যে ৭ শ্রেণির লোককে কবরে প্রশ্ন করা হবে না

মহান আল্লাহর অনুগ্রহে কিছু মানুষ এ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবেন যে, তাকে কবরদেশে সওয়াল জওয়াবের সম্মুখীন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *