Home | সাক্ষাৎকার | ‘আ’লীগের কাছে ১০-১২ টি আসন চাইব’

‘আ’লীগের কাছে ১০-১২ টি আসন চাইব’

নাজমুল হুদা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী (বিএনপি) দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন একাধিক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে। বর্তমানে নিজ প্রতিষ্ঠিত তৃণমূল বিএনপি ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল এ্যলায়েন্সের (বিএনএ) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।
সমসাময়িক রাজনীতি, ভবিষৎ পরিকল্পনা ও অতীত ভূমিকা নিয়ে পরিবর্তন ডটকমের মুখোমুখি হয়েছেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পরিবর্তন ডটকমের নিজস্ব প্রতিবেদক লুৎফর রহমান সোহাগ। আজ পড়ুন সাক্ষাৎকারের প্রথম কিস্তি।
পরিবর্তন ডটকম : আগামী নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। আপনি তৃণমূল বিএনপি ও বিএনএ এর প্রধান, এই মুহুর্তে কি ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতায় রয়েছেন?

নাজমুল হুদা : বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দল রয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দল; আর আমার তৃণমূল বিএনপি নেতৃত্ব দিচ্ছে বিএনএ’র। বড় দুই দলের বাইরে এসে আমি একে জনগণের রাজনৈতিক দল হিসেবে সংগঠিত করছি। তবে ১৪ দলের সাথেও একটা যোগাযোগ রয়েছে।
পরিবর্তন ডটকম : বড় দুই দলের বাইরে এসে নতুন দল নিয়ে সফল হওয়ার নজির এদেশে দেখা যায়নি। আপনি কতটুকু সম্ভাবনা দেখছেন?
নাজমুল হুদা : বিএনপি ক্ষমতায় থেকে, ক্ষমতার প্রভাবে, ক্ষমতার অর্থে গড়া রাজনৈতিক দল। জাতীয় পার্টিও একই। কেবল আওয়ামী লীগই এদেশে জনগণের স্বত:স্ফুর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। এরপর আমার তৃণমূল বিএনপি হবে দ্বিতীয়, যেটি জনগণের ভেতর থেকে গড়ে উঠছে। এখানে অর্থের প্রভাব নেই, ক্ষমতার প্রভাব নেই; জনগণ আছে। এ কারণেই আমি আশাবাদী।

পরিবর্তন ডটকম : আপনার ব্যক্তিগত পরিচিতির বাইরে তৃণমূলে দলটি কি সংগঠিত হতে পেরেছে?
নাজমুল হুদা : তৃণমূল বিএনপিতে মানুষ স্বত:স্ফুর্তভাবে অংশ নিচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে কমিটি হচ্ছে স্বত:স্ফুর্তভাবে। কিন্তু আমি নিজেই জেলায় জেলায় সফর করতে সময় পাইনি, এটা একটা সমস্যা। টিম করে সফর করতে পারলে দলটি আরও শক্তিশালী হয়ে যেত। সবখানে অফিস করে দিতে পারিনি, এসব সীমাবদ্ধতা রয়েছে; এরপরও স্বত:স্ফুর্তভাবে দলটি এগিয়ে যাচ্ছে।

পরিবর্তন ডটকম : আগামী নির্বাচন ঘিরে নানাবিধ আলোচনা হচ্ছে, সংশয়ও রয়েছে। আপনি কিভাবে দেখছেন?
নাজমুল হুদা : জনগণের ক্ষমতায়ন জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। সুস্থ ও অবাধ নির্বাচন হতে হবে, যেখানে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে। নির্বাচন দরকার, তবে সেটি ৫ জানুয়ারির (২০১৪) মত না। জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য যে ধরনের নির্বাচন দরকার, সেটি আমার ভিশন- ২০২৪ এ রয়েছে।
এ ভিশন আমলে নিলে ৭ দিনের মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা সম্ভব, যেটা হবে স্বচ্ছ। এর ভিত্তিতে অটোমেটিক ভোটার আইডি হিসেবে নাগরিকের হাতে পাসপোর্ট তুলে দিতে হবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে সেটি প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া। ভোট দিলে সেই পাসপোর্টে একটি সিল মেরে দিবে নির্বাচনী কর্মকর্তারা, ফলে সে ভোট দিয়েছে কি দেয় নাই সেটার পরিচয় সে নিজেই ক্যারি করবে। কেউ ভোট না দিলেও যদি তার ভোট পড়ে, তখন সে পাসপোর্ট দেখিয়ে প্রমাণ করতে পারবে যে কেন্দ্রে সে যায়নি। তখন আর ব্যালেট ছিনতাই করে লাভ হবে না। ভোটের অঙ্গন থেকে ছিনতাই, দখল, সন্ত্রাস দূর হয়ে যাবে। জনগণের ক্ষমতা আরও বেড়ে যাবে, সেটিই শেখ হাসিনাকে আমরা উদ্বুদ্ধ করতে চাই।

পরিবর্তন ডটকম : সরকারের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলা হচ্ছে…
নাজমুল হুদা : উনি (শেখ হাসিনা) উন্নয়ন অনেক করেছেন, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ তিনি জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেননি এখনো। সেটি করলে তিনি সবদিক থেকেই গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবেন। আর আমাদের ভিশন অনুযায়ী স্বচ্ছ ভোটাধিকারের বিষয়টি বাস্তবায়ন করলে তার অবস্থান আরও বেড়ে যাবে, সুস্থ নির্বাচনের মাধ্যমে আগামীতে তিনিই নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসবেন। আর না আসলেও একটি কালচার থেকে যাবে, জনগণ বলবে- ইনি আমাদের প্রকৃত ভোটাধিকার দিয়ে গেছেন। সেটিই হবে তার জন্য সত্যিকারের স্বীকৃতি।

পরিবর্তন ডটকম : তাহলে আপনি বলছেন যে, ভোটার তালিকা ও ভোটাধিকার প্রয়োগে একটা সুষ্ঠু ‘কালচার’ চালু করলেই জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে?
নাজমুল হুদা : হুম, একটি হেলদি কালচার প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীকে বলবো এটি করেন, আপনার তো হারানোর ভয় নেই।
এসব তাকে বুঝানো দরকার। কেবল খালেদা জিয়ার মত রক্তচক্ষু দেখিয়ে- সহায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন করবো না বললে হবে না। নির্বাচন আপনার (শেখ হাসিনা) অধীনেই হবে। কারণ সিস্টেম চেঞ্জ হলে কে সরকার আর কে ইসি সেটি দেখবে না জনগণ। সিস্টেমই সব ঠিক করে দিবে।
পরিবর্তন ডটকম : আপনার ভিশন- ২০২৪ বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ…

নাজমুল হুদা : দুইদল ২০৪১ ও ২০৩০ এর দুটি ভিশন দিয়েছে। কিন্তু আমি পরবর্তী ৫ বছরের ভিশন দিয়েছি, এখানে ৫ বছরে কি করতে হবে তা স্পষ্ট বলা আছে। আমরা সরকারের সাথে থেকে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্বুদ্ধ করে তা বাস্তবায়ন করে জনগণের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে চাই।
পরিবর্তন ডটকম : জনগণের ক্ষমতায়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ কি হতে পারে?
নাজমুল হুদা : আমরা স্বৈরশাসনকে চিরতরে দূর করতে চাই। সেজন্য প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান জানাই। স্বৈরশাসক ছিলেন এরশাদ, খালেদা জিয়াও; আবার স্বৈরশাসক ইনিও (শেখ হাসিনা)। কিন্তু আমরা আশাবাদী, উনার (শেখ হাসিনা) হাত ধরেই এদেশ স্বৈরাচারমুক্ত মুক্ত হবে। তাকে সেজন্য উদ্বুদ্ধ করতেই আমরা তার পাশে আছি।

পরিবর্তন ডটকম : আপনি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটে যেতে চান, সেক্ষেত্রে সমঝোতার ভিত্তি কি হতে পারে?
নাজমুল হুদা : ১৪ দলের সাথে আপাতত আমাদের যুগপৎ হচ্ছে। কিন্তু ওখানে যোগদানের বিষয়টি তো পুরোপুরি নির্ভর করছে শেখ হাসিনার হাতে। আমরা আমাদের আগ্রহ প্রকাশ করতে পারি, তাদের আমাদের জোট নিয়ে ৪৫ দল করার প্রস্তাব দিতে পারি। সেক্ষেত্রে আমরা ১০-১২ টি সিটের প্রস্তাব করতে পারি। আওয়ামী লীগের যেসব আসনে শক্ত প্রার্থী নেই, সেখানে আমরা প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করবো।

পরিবর্তন ডটকম : আপনার ৩১ দলের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে, সেক্ষেত্রে ১৪ দলের সাথে জোটবদ্ধ হতে না পারলে বিকল্প কি ভাবছেন?
নাজমুল হুদা : নামসর্বস্ব দল তাদের মধ্যেও আছে, আবার আমাদেরও আছে। যদি কোনো কারণে জোট না হয় তাহলে তৃণমূল বিএনপির নেতৃত্বে বিএনএ একাই নির্বাচনে অংশ নিবে। সেক্ষেত্রে ১৪ দলের সাথে সম্পর্কটা যুগপৎই থাকবে।
পরিবর্তন ডটকম : আপনার দল এখনো নিবন্ধন পায়নি, এক্ষেত্রে আগামী নির্বাচনে আপনার অংশ নেওয়ার….
নাজমুল হুদা : আমাদের এখনো নিবন্ধন হয়নি। তবে আশা করছি শিগগিরই সেটি হয়ে যাবে, নির্বাচনের আগেই নিবন্ধন পেয়ে যাবো। নিবন্ধন হবেই।
পরিবর্তন ডটকম : রাজনীতি নিয়ে মানুষের মধ্যে যেমন আশা রয়েছে, তেমনি হতাশাও প্রবল। একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশের সামগ্রিক রাজনীতির গতিপথটা কিভাবে দেখেন?

নাজমুল হুদা : আমাদের জাতীয় চরিত্র ঠিক নাই। আমরা আমাদের চারিত্রিক দৃঢ়তা বর্জন করে আসছি। গ্রামের মাতবর থেকে শুরু করে সবাই এখন মাতবরি করে, রাজনীতিবিদরা মাতবরি করে। নিরীহ লোকজন, যারা স্বাভাবিক সরল বিশ্বাসে থাকেন; দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা অত্যন্ত ধূর্ত রাজনীতিবিদদের শিকারে পরিণত হয়েছে। এসব কারণে এদেশে রাজনৈতিক সিস্টেম গ্রো হয়ে উঠতে পারেনি। ফলে জনগণ যে নিজস্ব স্বত্তা, বিচার-বোধ দিয়ে একটি সরকারকে ভোটে জিতিয়ে আনবে সেটা তারা হারিয়ে ফেলেছে।

পরিবর্তন ডটকম : এ থেকে উত্তরণের উপায় কি?
নাজমুল হুদা : রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও সিস্টেমেটিক ও সু-সংগঠিত করতে হবে। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমেই জনগণকে পলিটিক্যাল এডুকেশন দিতে হবে, যেটি হবে আবার সরকারের টাকায়। এরকম একটি চিন্তাভাবনা আমার মাথায় আছে, সামনে এটি লিখে প্রকাশ করবো। সেটি বাস্তবায়ন হলে সহজেই জনগণ রাজনৈতিকভাবে অগ্রসর হতে পারবে। তখন আর রাজনীতিতে বাইরের প্রভাবটা থাকবে না, সেটি দূর হয়ে যাবে।
পরিবর্তন ডটকম : আপনার রাজনৈতিক পথচলা শুভ হোক। ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা।
নাজমুল হুদা : আপনাকেও অগ্রিম ঈদের শুভেচ্ছা।

About admin

Check Also

‘সংসদ বহাল রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়’

ড. দিলারা চৌধুরী। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর। বাংলাদেশ অ্যান্ড দি সাউথ …

Leave a Reply