Breaking News
Home | শিক্ষা | ঢাবিতে চান্স পেয়েও ভর্তি হতে পারছেনা দিনমজুর মোহাম্মদ আলী

ঢাবিতে চান্স পেয়েও ভর্তি হতে পারছেনা দিনমজুর মোহাম্মদ আলী

তানভীর হাসান তানু:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জাহাঙ্গীর আলম নামে বীরগঞ্জ উপজেলার একবন্ধু রয়েছে। সে আজ রাতে ইনবক্সে একটা ম্যাসেজ পাঠায়। বলে, ভাই আপনি তো সংবাদকর্মী। ফেসবুকে বিভিন্ন মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। আমার প্রতিবেশী দিনমজুর একটি মেধাবী ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে। কিন্তু সে টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারছে না। আমার কাছে এসেছে। তাই আপনার কথা মনে হলো আপনি ছেলেটির ভর্তি হওয়ার জন্য সহযোগিতা করতে পারবেন।

কেন যেন আমি জাহাঙ্গীর আলম নামে ওই ফেসবুক বন্ধুটিকে বলেই দিলাম “ওই মেধাবী শিক্ষার্থীর ভর্তি করার দায়িত্ব আমিই নিব”। অা‌মি দা‌য়িত্ব নেব মা‌নে এই না যে অামি তা‌কে অর্থ দি‌য়ে সহ‌যো‌গিতা কর‌বো। এখনও অা‌র্থিকভা‌বে অতটা সক্ষম হইনি। ত‌বে সবার কাজ থে‌কে সাহায্য নি‌য়ে তা‌কে ভ‌র্তির দা‌য়িত্ব অা‌মি নি‌তে চাই।

কারণ আমার ইচ্ছে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করার, সেই সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। তাই উত্তর জনপদের একজন ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে ভর্তি হতে পারবে না, সেটি কখনো হতে দিতে পারি না। সংবাদকর্মী হিসেবে অসহায় মানুষের পাশে দাড়াঁনোই কেন জানি দায়িত্বে পরিণত হয়েছে।

মোহাম্মদ আলী বয়স ১৮। দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার ১নং ডাবর ইউনিয়নের ডাহছী গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে। পরবর্তীতে তার সাথে যোগাযোগ করলে সে খুলে বলে তার জীবন যুদ্ধের কথা।

৩য় শ্রেণীতে পড়া শুনা করার সময় বাবা না ফেরার দেশে চলে যান। তখন মা মসলিমা বড় বোন ও আমাকে নিয়ে সংসার চালাতে বিপাকে পড়েন। অন্যজনের বাড়িতে দিন মজুরের কাজ করে সংসারের হাল ধরেন। এভাবে আমি প্রাথমিক বিদ্যালয় পার হয়েছি।

জয়নন্দ এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ে আমাকে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তি করে দেয় মা। মনে করলাম ভাল করে পড়াশুনা করে এসএসসিতে ভাল ফলাফল করতে হবে। কিন্তু আমাদের সংসারে বিবাহযোগ্যা বড় বোন আছে। তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য ‘মা’ খুবই টেনশন করতেন প্রায় সময়। দিনমজুরি করে কিভাবে বোনকে বিয়ে দিবে সেই চিন্তায় থাকতো মা। তাই ৭ম শ্রেণী থেকে মায়ের সাথে দিনমজুরের কাজ আমিও শুরু করলাম।
সপ্তাহে দুই দিন স্কুলে যেতাম আর নিয়মিত পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করতাম। অবশেয়ে মা-ছেলের উপার্জিত টাকায় ৫ বছর আগে বীরগঞ্জ উপজেলার ২৫ মাইল এলাকায় বোনের বিবাহ দেই। মায়ের টেনশন তখন কিছুটা কমে আসে।

এর মধ্যে ২০১৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে ৪.৯৪ জিপিএ পয়েন্ট নিয়ে উত্তীণ হই। মায়ের দিক দেখে অন্য কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ হলেও পরে এলাকায় জয়ন্দ ডিগ্রি কলেজে এইচএসসিতে ভর্তি হই। কিন্তু মা-ছেলের জীবন নির্বাহের জন্য দিনমজুরের কাজ ছাড়তে পারি নাই।

সারাদিন মাঠে ক্ষেত খামারে কাজ করে রাত জেগে পড়াশুনা করলাম। ইচ্ছে ছিল ভাল করে পড়াশুনা করলেই একমাত্র জীবনে সংগ্রামের পরিবর্তন হতে পারে। এরপর ২০১৭ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় ৪.৮৪ জিপিএ পয়েন্ট নিয়ে উত্তীন হই। অনেক বন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কোচিং করার জন্য ঢাকা শহরে পাড়ি জমায়। আমারো ইচ্ছে ছিল, কিন্তু উপায় ছিল না। হঠাৎ একদিন মনে হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশুনা করতে পারলে আমার জীবনে পরিবর্তন হতে পারে। সেই স্বপ্ন নিয়ে এলাকার জাঙ্গীর আলম ভাইয়ের কাছে পরামর্শ নেই। ফরম কেনার টাকাও ছিল না। জাহাঙ্গীর ভাই ৫শ’ টাকা দিয়েছিল বলেই ফরম পূরণ করে পাঠিয়েছিলাম। এরপর রাত জেগে কোচিং ছাড়াই প্রস্তুতি গ্রহন শুরু করি।

পরে ঢাকায় গিয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য ‘খ’ ইউনিটে পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করি। রেজাল্ট প্রকাশ হওয়ার পর দেখি ‘খ’ ৬৬৮ সিরিয়াল। চান্স পেয়েছি। মা’ কে প্রথমেই খবরটি জানাই। কিন্তু ‘মা’ কেন জানি খুশি হতে পারেনি। মা বলেন, ঢাকায় পড়াশুনা করবি কিভাবে আমাদের তো টাকা নেই। ভর্তির জন্য টাকা লাগবে সেটা কিভাবে জোগাড় করবি। মায়ের কথা শুনে আমিও হতাশ হলাম কিভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবো।
তখন আবার সেই জাহাঙ্গীর ভাইয়ের কাছে গেলাম একটা পরামর্শ বের করার জন্য। উনি বললেন, ফেসবুকে আমার এক সাংবাদিক ভাই আছে উনাকে বললে ভর্তির একটা ব্যবস্থা হতে পারে।

জাহাঙ্গীর ভাই ওই সাংবাদিক ভাইয়ের সাথে কথা বলে রাতেই আমাকে জানান, ভর্তির জন্য সম্পূর্ণ টাকা নাকি সাংবাদিক ভাই ব্যবস্থা করবেন। মা’ কে ভর্তি হওয়ার টাকার বিষয়ে আর টেনশন করতে হবে না বললে তখন মায়ের মুখে হাসি ফুটে উঠে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্সপ্রাপ্ত মোহাম্মদ আলী আরও জানান, আগামী মাসের ২৪ অক্টোবর ভর্তির শেষ সময়। ভর্তির জন্য আনুমানিক ৩০ হাজার টাকা লাগতে পারে। সমাজের অনেক সহযোগিতাকামী বা ফেসবুকের অনেক বন্ধু রয়েছে যারা মোহাম্মদ আলীর ভর্তির জন্য এগিয়ে আসতে পারেন। আপনাদের সহযোগিতা পেলেই একত্রে মিলে ওই মেধাবী শিক্ষার্থীর দায়িত্বটা নিতে পারি। আমার উপর আস্থা বা বিশ্বাস রাখলে সহযোগিতা করতে পারেন। আমার সাথে যোগাযোগের মোবাইল নম্বর-01717526356 (বিকাশ)।

লেখকঃ
গণমাধ্যম কর্মী

About admin

Check Also

কোটা সংস্কারের নেতাদের ওপর ছাত্রলীগ নেতার হামলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন রহমান। ছবি : …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *