Home | সারাদেশ | দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না রোহিঙ্গাদের

দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না রোহিঙ্গাদের

এক মাসে নৌকাডুবে ১৭০ জনের মৃত্যু, আশ্রয় পেলেও খাবার মিলছে না, বিশুদ্ধ পানির অভাব
আজহার মাহমুদ, উখিয়া থেকে ফিরে৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ০৯:১৩ মিঃ
দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না রোহিঙ্গাদের

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেও শেষ রক্ষা নেই নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের। সাগরপথে পালাতে গিয়ে পানিতে ডুবে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছে ভাগ্য বিড়ম্বিত এই জনগোষ্ঠী। গত ২৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত উখিয়া টেকনাফের উপকূল এবং নাফ নদী থেকে ১৭০ এর বেশি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। আর কী পরিমাণ মৃতদেহ মাঝ সাগরে ভেসে গেছে সেই হিসেব কারো কাছে নেই।

গত এক মাস ধরে দফায় দফায় নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর উপকূলের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে রোহিঙ্গাদের লাশ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলছেন, উপকূলের কাছাকাছি জায়গায় যেসব নৌকা ডুবেছে ওইসব নৌকা থেকেই কিছু মৃতদেহ কূলে ভেসে আসছে। এরচেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ মৃতদেহ সাগরে ভেসে যাচ্ছে কিংবা নিখোঁজ হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

এদিকে রোদ-বৃষ্টির কারণে রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ যেনো শেষই হচ্ছে না। বাংলাদেশ সরকার, বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের দেওয়া ত্রাণ সামগ্রী পাওয়ার পরও অনেকে এখনো নানাভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। কেউ খাবার-দাবার পেলেও ত্রিপলের অভাবে এখনো ঘর বাঁধতে পারেননি। কেউ আবার ত্রিপল কিংবা অন্যান্য সামগ্রী পেলেও খাবার সংকটে আছেন।

ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) এর হিসেবে, গত ২৫ আগস্ট থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫ লাখ ১ হাজার ৮’শ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। যদিও বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যা ছয় লাখ ছাড়িয়েছে। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আবার এখনো রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসা থামেনি। বিশেষ করে মিয়ানমার উপকূল থেকে রোহিঙ্গা বাসিন্দারা নৌকা ভাড়া করে শাহ পরীর দ্বীপ ও কক্সবাজার উপকূল হয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে।

পানি সংকট: সংস্থাটির একজন মুখপত্র হালা জাবের ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, পালিয়ে আসা শরণার্থীদের জন্য সাহায্য সংস্থাগুলো বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে রীতিমতো সংগ্রাম করছে। এছাড়া গত কয়েকদিনে নতুন করে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে তারা এখনো আশ্রয়ের স্থান পায়নি। খাবার এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে তারা। তার উপর প্রতিদিন বৃষ্টিতে ভয়াবহ দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে তাদের।

বিভিন্ন সাহায্য সংস্থার প্রতিনিধিরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য বিভিন্ন সংস্থা পানি ও পানি বিশুদ্ধকরণের ট্যাবলেট সরবরাহ করলেও তা অপ্রতুল। পানির অভাবে অনেকে ডোবা, কৃষি জমির পানিও ব্যবহার করছেন। এতে ডায়রিয়া, কলেরাসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ ছড়াতে পারে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ জানিয়েছে, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে প্রতিদিন ৫৯ মিলিয়ন লিটার বিশুদ্ধ পানি প্রয়োজন। এছাড়া সোয়া তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গার জন্য জরুরিভিত্তিতে আশ্রয় শিবির নির্মাণ প্রয়োজন।

বালুখালীতে শেড নির্মাণ শুরু: বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে উখিয়ার বালুখালীতে ২ হাজার একর জায়গায় আশ্রয় শিবির নির্মাণের ঘোষণা দেওয়ার তিন সপ্তাহ পার হলেও এখনো পর্যন্ত শিবির নির্মাণে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। যদিও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের রোহিঙ্গা সেলের প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট খালেদ মাহমুদ ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য নির্ধারিত ১৪ হাজার শেড নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা এই কাজ তদারকি করছেন। সেনাবাহিনী দায়িত্ব নেয়ার আগে আইওএম এবং ইউএনএইচসিআরও ওই এলাকায় কিছু শেড নির্মাণ করেছে। শেড নির্মাণ শেষ হওয়ার সাথে সাথে পর্যায়ক্রমে আশ্রয়হীনদের থাকার বন্দোবস্ত করা হবে বলে তিনি জানান।

শিশুদের জন্য ১৩শ স্কুল করবে ইউনিসেফ : রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য এক হাজার তিনশ শিক্ষাকেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে ইউনাইটেড ন্যাশনস চিলড্রেন ফান্ড (ইউনিসেফ)। সংস্থাটি আগে থেকে থাকা রোহিঙ্গা শিশুদের ১৮২টি কেন্দ্রে বার্মিজ, ইংরেজি ভাষা জ্ঞানের পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা দিয়ে আসছিলো।

ইউনিসেফ’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি অ্যাডওয়ার্ড বেডবেদার জানিয়েছেন, সহিংসতায় পালিয়ে আসা শিশুদের ভবিষ্যত্ যাতে ভালো হয় সে জন্য নতুন করে শিক্ষাকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চার থেকে ছয় বছর বয়সী শিশু এবং এরপরের ধাপে ছয় থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের ভাষাজ্ঞান, গণিত, বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান দেওয়া হবে। এছাড়া তাদের মানসিক কাউন্সিলিংও করা হবে।

ইউনিসেফের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এতিম রোহিঙ্গা শিশুদের তালিকা তৈরি করছে। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ও দেখাশোনার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা।

About admin

Check Also

ইয়ার্কি করতে যেয়ে চোর হয়ে গেলাম, বিদায় পৃথিবী

মৃতদেহের পাশে বিষের খালি বোতল। নিহতদের মুখ দিয়ে তখনও বের হচ্ছে ফেনা ও লালা। তাদের পকেটে চিরকুট, তাতে লেখা, “ মা আব্বা তোমাদের খুব জ্বালিয়েছি, আমাকে মাফ করে দিও। টাকা আমি নিছিলাম ভুল করে, ইয়ার্কি করতে যেয়ে চোর হয়ে গেলাম। তোমরা সবাই মাফ করে দিও, বিদায় পৃথিবী। ’’ এই অবস্থায় ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রাম থেকে রিপন হোসেন (২৮) ও আব্দুল আওয়াল (২৭) নামে দুই বন্ধুর মৃতদেহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *