Breaking News
Home | সারাদেশ | ইলিশের ঝড় আসছে ২২দিন পর

ইলিশের ঝড় আসছে ২২দিন পর

পহেলা অক্টোবর থেকে ২২শে অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের শিকার, সংরক্ষণ, বেচাকেনা, সরবরাহ সবকিছুই বন্ধ থাকবে। কারণ এসময় অমাবস্যা আর পূর্ণিমার ওপর নির্ভর করে ইলিশের প্রজনন ও বিচরণ। তারপর ২৩শে অক্টোবর থেকে আবার ইলিশ সংরক্ষণ, শিকার, সরবরাহ সবকিছুই চালু হবে। সেইসাথে নদীগুলোতে ধরা পড়বে ঝাকে ঝাকে ইলিশ।

এদিকে, গত কয়েক দিনে ইলিশের জোয়ারেও মেঘনায় আগের মতো ধরা পড়েনি এ মাছ। তবে তা নিয়ে আক্ষেপ নেই মেঘনা তীরের জেলেদের। মাকসুদুর নামের এক জেলে জানান, ‘এই ইলিশ ইলিশ না, আরো ইলিশ আছে!’
‘মানেটা কী?’—এ প্রশ্ন শুনে তিনি বলেন, ‘বড় গোন তো সামনে রইয়া গ্যাছে গা, হেই সময় আরো বেশি ইলিশ পড়ব এই মেঘনা আর পদ্মায়। যদিও তহন আমাগো হাত-পা বান্দা থাকব, নদীতে নামতে পারুম না, অপেক্ষা করতে অইব ২২ দিন।

মত্স্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চার বছর আগে থেকে ইলিশ মাছের অবাধ প্রবেশ ও বিচরণ নির্বিঘ্ন করতে পাঁচটি নির্দিষ্ট এলাকাকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি মত্স্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০-এর অধীনে এ সময়ে টানা ১৫ দিন ইলিশ শিকার, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত বা কেনাবেচা নিষিদ্ধ করা হয়। গত বছর থেকে ওই নিষেধাজ্ঞার ব্যাপ্তি ২২ দিন করা হয়। চাঁদের হিসাব অনুসারে প্রতিবছর ১২-১৫ দিন করে সময় এগিয়ে আসে। ফলে গত বছর ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও এ বছর ওই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে ১ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত।

ইলিশ গবেষক ও বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিএফআরআই) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনিসুর রহমান বলেন, ‘ইলিশের সঙ্গে চাঁদের যোগসূত্র আছে। মানে অমাবস্যা আর পূর্ণিমার ওপর নির্ভর করে ইলিশের প্রজনন ও বিচরণ। আমরাও ওই চাঁদের হিসাবকেই বিবেচনায় নিয়ে থাকি। জেলেরা এ বিষয়ে সচেতন তাদের অভিজ্ঞতা থেকে। ’

আবার বন্যার পরপরই পানিপ্রবাহও ছিল ইলিশের বিচরণবান্ধব। তাই ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ মোহনামুখী হয়েছে। কিন্তু মোহনায় বেশি ধরা পড়ায় নদী পর্যন্ত এসে পৌঁছতে পারেনি ঝাঁক। ফলে তুলনামূলকভাবে নদীতে এবার কম ইলিশ ধরা পড়েছে। তবে আগামী ৫ অক্টোবর বড় পূর্ণিমা আসছে, তখন নদীতে প্রচুর ইলিশ আসবে। যদিও ঠিক ওই সময় সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় জেলেরা ২২ অক্টোবরের পরে সেই ইলিশ ধরার সুযোগ পাবে। বিষয়টি নিয়ে আরো তথ্যভিত্তিক ব্যাখ্যা দিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মত্স্যবিজ্ঞানী অধ্যাপক আব্দুল ওয়াহাব। তিনি বলেন, একটি পর্যবেক্ষক টিম এবার ৯টি স্থান থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে। তাতে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ইলিশই এবার উপকূল থেকে নদীতে ঢুকতে পারেনি এক শ্রেণির দাদনচক্রের কারসাজিতে। তারা নিজেদের নির্ধারিত জেলেদের এবার আগেভাগেই মোহনায় মোতায়েন করে রেখেছিল ট্রলার-জাল নিয়ে। ওই জেলেরা উপকূলে প্রায় ৭১০ কিলোমিটার এলাকায় ইলিশ চলাচলের গতিপথে জালের ব্যারিকেড তৈরি করে গেল অমাবস্যা-পূর্ণিমায় সেখানেই ধরে ফেলে বেশির ভাগ ইলিশ। ফলে ইলিশ নদীতে ঢুকতে পেরেছে খুব কম। তবে আসছে বড় পূর্ণিমার সময় যেহেতু কোথাও ইলিশ ধরার সুযোগ থাকবে না, মোহনাতেও জাল ফেলা যাবে না, তাই ওই সময় ইলিশের ঝাঁক ছুটে আসবে নদ-নদীতে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, গত কয়েক দশকে ইলিশের উৎপাদন কমে গিয়েছিল। এ অবস্থায় জাটকা সংরক্ষণ, সর্বোচ্চ প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা নিষিদ্ধ ও অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনার কাজ জোরালো করা হয়। যার সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে।

মত্স্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান সূত্র জানায়, ২০০১-০২ সালের তুলনায় ইলিশ মাছের উৎপাদন বেড়েছে ৭৫ শতাংশের বেশি। দেশের মাছের চাহিদার ১২ শতাংশ পূরণ করে ইলিশ। আর দেশের জিডিপিতে এ মাছের অবদান ১ শতাংশ। সরাসরি পাঁচ লাখ জেলে এবং আরো ২৫ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে ইলিশকেন্দ্রিক জীবিকা নির্বাহ করে।

মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ অনুসারে সারা বিশ্বের মোট ইলিশের ৯৫ শতাংশই পাওয়া যায় বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের জলসীমায়। আর বিশ্বের মধ্যে এককভাবে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ মেলে বাংলাদেশের জলসীমায়।

About admin

Check Also

১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার সাক্ষী পুলিশ কর্মকর্তা হেলালের সড়কে মৃত্যু

ফেনীতে সড়কে নিহত হয়েছেন আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী পুলিশ পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *