Home | অপরাধ | ক্লোন করে এটিএম কার্ড জালিয়াতি

ক্লোন করে এটিএম কার্ড জালিয়াতি

রাজধানী ঢাকা ও এর বাইরে আবারও এটিএম কার্ড জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। বেসরকারি ব্র্যাক ব্যাংকের তিন জন গ্রাহকের কার্ড ক্লোন করে এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। ব্যাংকটির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করতে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটকে অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। সিটিটিসি ইতোমধ্যে এই জালিয়াতির ঘটনা অনুসন্ধানও শুরু করেছে। সিটিটিসির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাজমুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর ওই ঘটনায় সিটিটিসির সাইবার ক্রাইমের পক্ষ থেকে রাজধানীর রমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে সাইবার ক্রাইম ইউনিট।

সিটিটিসি সূত্র জানায়, ব্র্যাক ব্যাংকের একজন গ্রাহকের একটি কার্ড তার নিজের কাছে থাকলেও সেটি দিয়ে গত ৩ আগস্ট চট্টগ্রামের জিপিও বুথ থেকে টাকা তোলা হয়। আরেকজন গ্রাহকের কার্ড দিয়ে শ্যামলীর রিং রোড এলাকার স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংকের বুথ থেকে ৪ ও ৫ আগস্ট টাকা তোলা হয়। এছাড়া, আরেক গ্রাহকের কার্ড দিয়ে মিরপুর ১০ নম্বরের ইস্টার্ন ব্যাংকের বুথ থেকে ১৬ থেকে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে টাকা তোলা হয়।

সিটিটিসি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় প্রাথমিক অনুসন্ধানে তারা জানতে পেরেছেন ক্লোন করা কার্ড দিয়ে বনানীর স্বপ্ন সুপারশপ থেকে অনেক কিছু কেনাকাটাও করা হয়েছে। জালিয়াতি করে গত ১৬ থেকে ২০ জুলাই এসব কার্ড স্বপ্ন সুপারশপে থাকা মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের পয়েন্ট অব সেলস মেশিন (এমটিবিএল টারমিনাল নং-২০৫০০৪৫৭) ব্যবহার করা হয়।

সিটিটিসির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের কার্ড ডিভিশনের কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এজন্য ব্যাংকটির কয়েকজনকে সন্দেহও করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তাদের সিটিটিসি কার্যালয়ে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্র্যাক ব্যাংকের হেড অব কমিউনিকেশন্স জারা জাবীন মাহবুব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের তিন জন গ্রাহকের সঙ্গে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, আমরা তাদের সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষতিপূরণ দিয়ে দিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি তদন্ত করেছি। এতে দেখা গেছে একটি পস মেশিন ও অন্য ব্যাংকের এটিএম বুথের মাধ্যমে এই ঘটনা ঘটেছে। এমন ঘটনা আমাদের ব্যাংকের কোনও গ্রাহকের সঙ্গে প্রথমবারের মতো ঘটলো। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান করছি।’

সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা জানান, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কার্ড জালিয়াতির ঘটনায় একজন বিদেশিসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছিল সেসময় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অধীনে থাকা সাইবার ক্রাইম ইউনিট। ওই মামলার তদন্ত এখনও চলছে। তদন্তে দেশি-বিদেশি একটি চক্রের সন্ধান পায় সাইবার ক্রাইম ইউনিট। ওই কার্ড জালিয়াতির ঘটনায় একাধিক ব্যাংকের কার্ড ডিভিশনের কর্মকর্তারাও জড়িত ছিল। এটিএম বুথে বিশেষভাবে স্থাপিত ক্যামেরা দিয়ে গ্রাহকের কার্ডের পাসওয়ার্ড জেনে নিয়ে কার্ডটি ক্লোন করে তারা জালিয়াতি করতো। ওই ঘটনা সেসময় আলোচিত হলে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো তাদের এটিএম বুথে নজরদারি বাড়ায়। কোনও কোনও ব্যাংক তাদের বুথে কার্ডের পাসওয়ার্ড বাটন চাপার অংশটি বিশেষভাবে তৈরি করে। যাতে মাথার উপরে থাকা কোনও গোপন ক্যামেরা পাসওয়ার্ড জানতে না পারে।

সিটিটিসি বলছে, গত বছরের প্রথম দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে কার্ড জালিয়াত চক্রটি কিছুদিন আত্মগোপনে ছিল। তারা আবারও মাঠে নেমেছে বলে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন। এই চক্রের সঙ্গে দেশীয় কোনও ব্যাংকের বর্তমান বা সাবেক কর্মকর্তারাও জড়িত থাকতে পারে। এছাড়া, বিদেশি কোনও নাগরিকও এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।

About sarah

Check Also

কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপকারী কনস্টেবল চিহ্নিত

পুলিশের দাঙ্গা দমন বিভাগের (পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট-পিওএম) কনস্টেবল সাইফুল ইসলামের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের শেল সিদ্দিকুর …

Leave a Reply