Home | অপরাধ | স্বামী হত্যাকারী এক ভয়ংকর স্ত্রী!

স্বামী হত্যাকারী এক ভয়ংকর স্ত্রী!

বগুড়ার গাবতলীতে জাকির হোসেন বিপু (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার পর শোবার ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার দায়ে নিহতের স্ত্রী বানু আকতারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার তিনদিন পর শনিবার সকালে পুলিশ মাটি খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে।

গাবতলী উপজেলার নাড়ুয়ামালা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের কাছে স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে স্ত্রী বানু আকতার।

নিহত জাকির হোসেন বিপু বগুড়া শহরের খান্দার বিলপাড়া এলাকার শাজাহান আলীর ছেলে। ৯ বছর আগে খান্দার এলাকায় ভাড়া থাকা গাবতলী উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত শমশের আলীর মেয়ে বানু আকতারের সঙ্গে জাকিরের পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক হয়। পরে তাদের বিয়ে হয়।

হত্যায় দায় স্বীকার করে বানু আকতার জানান, বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সাংসারিক বিভিন্ন কারণে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। মাঝে মধ্যে অমানবিক নির্যাতন করতো স্বামী জাকির। সহ্য করতে না পেরে তাদের বিচ্ছেদ হয়েছিল একবার।

তিনি আরও জানান, স্বামী জাকির রং মিস্ত্রির কাজের পাশাপাশি, ইয়াবা ব্যবসা, ছিনতাই ও জ্বিনের বাদশা সেজে মোবাইলের মাধ্যমে প্রতারণা করে টাকা আদায় করতো মানুষের কাছ থেকে। এটা তার পছন্দ ছিল না। প্রতিবাদ করলেই তার ওপর নির্যাতন করতো জাকির।

স্বীকারোক্তিতে বানু আকতার জানান, তাদের সংসার জীবনে ২টি মেয়ে সন্তান রয়েছে। একটির বয়স ৮ বছর অন্যটির ২ বছর। গত ২৭ সেপ্টম্বর বুধবার রাতের খাবার শেষে নেশাগ্রস্থ জাকির যখন ঘুমিয়ে পড়েন তখন বানু ইসুপগুলের শরবতের সঙ্গে ৫/৬ টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে জাকিরকে ঘুম থেকে ডেকে পান করান। জাকিরের আগে থেকেই ঘুমের ওষুধ ও ইসুপগুলের শরবত খাওয়ার অভ্যাস ছিল। পরে রাত ১টায় ঘুমে অচেতন স্বামী জাকিরকে বানু আকতার লোহার পাইপ দিয়ে নাক-মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এরপরও যখন তার মৃত্যু হচ্ছিল না তখন গামছা দিয়ে তিনি একাই জাকিরের গলায় ফাঁস লাগিয়ে নাক-মুখ চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

এরপর শোবার ঘরের বিছানা থেকে মরদেহ টেনে নামিয়ে নিয়ে খাটের নিচে মেঝেতে গর্ত করে পুঁতে রাখেন। পরে সেখানে মাটির পট্টি (লেপে) দিয়ে ঘরের মেঝে স্বাভাবিক অবস্থায় রেখে ঘর তালাবদ্ধ করে রাখেন। বড় মেয়েকে অন্যত্র পাঠিয়ে বানু আকতার স্বামীকে হত্যার পর থেকে ছোট সন্তানকে নিয়ে পাশের ঘরে রাত্রি যাপন করতে থাকেন। বানু আকতার বাড়িতে একা থাকার কারণে ২দিন বাড়ির বাহিরে বের হননি। ৩য় দিন গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে বানু আকতার গ্রামের লোকজনকে সংবাদ দেন। স্থানীয়রা বিষয়টি থানায় জানালে শনিবার পুলিশ মাটি খুঁড়ে গলিত মরদেহ উদ্ধার করে।

গাবতলী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল বাশার জানান, এ ঘটনার পর বানু আকতারকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। প্রথমে বানু আকতার স্বীকার করেনি এই মরদেহ তার স্বামী জাকিরের। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার স্বামী জাকিরকে হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দেন। এ ঘটনার পর নিহত জাকির হোসেন বিপুর মা জাকিয়া সুলতানা বাদী হয়ে পুত্রবধূ বানু আকতারসহ আরও ৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

জাগোনিউজ২৪

About admin

Check Also

পিতলকে সোনা বানিয়ে দেন তারা, ফাঁদে পা দিলেই সর্বনাশ

তিনজনের একজন রিকশাচালকের বেশে যাত্রী তোলে। অপরজন চিরকুট মোড়ানো পিতলের বার রাস্তায় ফেলে রাখে। পথচারীর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *