Home | বিডিটুডে | চীনের ‘ভয়ে’ মালদ্বীপে হস্তক্ষেপ করেনি ভারত

চীনের ‘ভয়ে’ মালদ্বীপে হস্তক্ষেপ করেনি ভারত

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করার পর ভারতের সামরিক হস্তেক্ষেপের আশঙ্কা ছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয় সামরিক ও কূটনৈতিক সূত্রগুলো। তবে চীনের ভয়ে সম্ভবত সে হস্তক্ষেপ করতে সাহস পায়নি ভারত।
চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সম্প্রতি ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করে চীনা নৌবাহিনীর যুদ্ধবহর। ধারণা করা হচ্ছে, তারাই মালদ্বীপে হস্তক্ষেপ হতে দেয়নি।
ভারতের দক্ষিণে ৪০০ কিলোমিটার দূরের দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপে ভারত ঐতিহ্যগতভাবেই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালনকারী। ইয়ামিন যাতে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বাধ্য হন, সেজন্য ভারতের প্রতি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছিল দেশটির বিরোধী দলীয় নেতারা। তবে শেষ পর্যন্ত কঠোর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, বেইজিং ইঙ্গিত দেয়, মালদ্বীপে কোনো ধরনের বিদেশী হস্তক্ষেপকে সে উদারভাবে নেবে না। এখানে তার রোড অ্যান্ড বেল্ট উদ্যোগের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। বেইজিং তার অবস্থান জোরালো করতে পূর্ব-ভারত মহাসাগরে তার নৌ উপস্থিতি বাড়িয়ে দেয়।
তবে চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের জাহাজগুলো নিয়মিত মহড়ায় অংশ নিচ্ছে।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মালদ্বীপের ঘটনাপ্রবাহে তারা ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে, তারা সেখানে চীনা স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার জন্য মালে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা ভারত মহাসাগরে চীনা রণতরীর উপস্থিতি নিশ্চিত করলেও জানিয়েছেন, সেগুলো মালদ্বীপ থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে রয়েছে।
কৌশলগত এই দ্বীপ রাষ্ট্রে ভারত ও চীন কীভাবে তাদের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করছে, তার অবশ্য বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়নি।
তবে গত সপ্তাহে ভারতের শীর্ষ কূটনীতিবিদ বিজয় গোখলে অনির্ধারিত সফরে বেইজিং গিয়ে চীনা কর্মকর্তাদের সাথে নানা বিষয়ে কথা বলেছেন। তারা একে অপরের উদ্বেগ, স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষার প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও স্পর্শকাতর হওয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করেছেন। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।

সাংহাই ইনস্টিটিউটস ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ লিউ জনঙই জানুয়ারিতে পিপলস ডেইলিকে বলেন, চীনের প্রতি ইয়ামিনের ঝুঁকে পড়াটা দিল্লির মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে।
জানুয়ারির শেষ ভাগে চীনা নৌবাহিনীর ‘সারফেজ অ্যাকশন গ্রুপ’ নীরবে ইন্দোনেশিয়ার সান্দা প্রণালী দিয়ে ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করে। ২০১৪ সালের পর এ ধরনের কোনো গ্রুপ পূর্ব ভারত মহাসাগরের ওই এলাকায় প্রবেশ করল। ফলে চীনের মহড়ার আসল উদ্দেশ্য নিয়ে ভারতের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
ওই এলাকা থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন রাজনৈতিক ভিন্ন মতালম্বীদের মুক্তি দিতে হঠাৎ করে দেয়া সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বরং বিচারপতিদেরও কারাগারে পাঠিয়ে দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করেন। ইয়ামিন বলেন, তিনি একটি অভ্যুত্থানচেষ্টা নস্যাৎ করেছেন।

আর চীনা রাষ্ট্রীয় মিডিয়ায় উদ্ধার মহড়ায় অংশ নেয়া তাদের নৌবাহিনীর ছবি প্রকাশ করে। কোনো কোনো বিশ্লেষক বলছেন, এর মাধ্যমে চীন সতর্ক বার্তা দিয়ে দিয়েছে।
তাদের মতে, চীন এর মাধ্যমে ভারতকে যে বার্তা দিয়েছে তা হলো, ‘তুমি যদি মালদ্বীপের কাছে আসো, তবে আমিও বেশি দূরে থাকব না।’
ভারতের নৌবাহিনীর চেয়ে চীনা নৌবাহিনী চারগুণ বড়। তারা ভারত মহাসাগরে তাদের শক্তি প্রদর্শন করে চলেছে। তারা এখানে কথিত ‘মুক্তার মালা’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একের পর এক বন্দর নির্মাণ করে চলেছে। মনে রাখতে হবে, এখান দিয়েই বিশ্বের মোট তেলের তিন-চতুর্থাংশ পরিবহন করা হয়।
একইসঙ্গে মালদ্বীপে জরুরি অবস্থা জারির পরপরই ভারতীয় সামরিক বাহিনী তার সি-১৩০ সুপার হারকিউলিস ও সি-১৭ গ্লোবমাস্টার পরিবহন বিমান দিল্লি থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় নগরী বেঙ্গালুরুর ইয়েলাহাঙ্কায় পাঠিয়ে দেয়। ছত্রী সেনাদের তৈরি থাকার নির্দেশও দেয়া হয় বলে দুটি সামরিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
কোচির দক্ষিণাঞ্চলীয় নৌ কমান্ডকেও তৈরি থাকার নির্দেশ দেয়া হয়। সামরিক অভিযানের মতো করেই এসব বিমান ও রণতরী প্রস্তুত করা হয়।
কিন্তু ইয়ামিন অটল থাকেন। আন্তর্জাতিক আহ্বান উপেক্ষা করে ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি জরুরি অবস্থা আরো ৩০ দিনের জন্য বাড়িয়ে দেন। কলম্বোতে মালদ্বীপ দূতাবাসের এক কূটনীতিক জানিয়েছেন, ইয়ামিন সরকারকেও একই আশ্বাস দিয়েছিল বেইজিং। দ্বিতীয় এক কূটনীতিক জানান, মালদ্বীপের কিছু অংশ বেইজিং দখল করে নিচ্ছে বলে বিরোধী দল অভিযোগ করার মাধ্যমে তারা চীনকে রাজনৈতিক সঙ্কটে টেনে এনেছে।
কলম্বোতে চীনা কূটনৈতিকদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, চীন এই অঞ্চলে তার মিশনগুলোকে জানিয়ে দিয়েছিল, ভারত যদি ইয়ামিনকে উৎখাত করতে চায়, তবে তারা তার পাশে দাঁড়াবে। এতে সামরিক সহায়তার কথাও ছিল কিনা তা সূত্রটি নিশ্চিত করতে পারেনি।
ব্রেকিংনিউজ

About admin

Check Also

জীবিত শিশু বদলে মৃত দেওয়ার দায় স্বীকার চাইল্ড কেয়ারের

চট্টগ্রামে জীবিত শিশু বদলে মৃত শিশু দেওয়ার দায় স্বীকার করেছে বেসরকারি হাসপাতাল চাইল্ড কেয়ার।৮ মে, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *